অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি

0
442

কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিটির সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন।

সূত্র জানায়, মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি ৮০ পৃষ্ঠার। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ১৩টি সুপারিশ রয়েছে। এ ছাড়া মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ২১ পৃষ্ঠার ছবি ও ৫৮৬ পৃষ্ঠার বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য আছে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো তথ্য দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা কমিটি প্রধান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিয়ে এসেছে। সচিব তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তদন্তাধীন বিষয় বলে প্রতিবেদন এখনই প্রকাশ করা হবে না। আদালত চাইলে প্রতিবেদনটি আদালতের কাছে জমা দেওয়া হবে।  

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও সরকারের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজ পর্যন্ত কী কী করেছি তার সংযুক্তি আছে ৮০ পৃষ্ঠার এ তদন্ত প্রতিবেদনে। ৬৮ জনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আমরা হত্যার উৎস, কারণ, করণীয় সম্পর্কে মতামত জানিয়েছি। এককথায়, সিনহার মৃত্যুর ঘটনা কেন ঘটেছে, এ ঘটনায় কারা দায়ী তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক আসামি জেল হাজতে থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার সুপারিশ করা হয়েছে।’ তবে এ ঘটনা পুলিশ বাহিনীর সুনামকে ক্ষুণ্ন করবে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১০ আগস্টের মধ্যে জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথমবার কমিটির সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় ফের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।