আবু সাঈদ অপু :

সারা জীবন চাকুরি করেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পেনশন ভাতার জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অবসর প্রাপ্তদের। এমনকি বছরের পর বছর ঘুরেও অনেকেই টাকা না পেয়ে চিকিৎসা অভাবে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। এমন নজির রয়েছে অহরহ। তারপরও তাদের ভাগ্যে জোটে নি সেই ভাতা।

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর কেবি ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের চতুথ শ্রেনীর কর্মচারী সোহরাব হোসেন। ২০১৩ সালের পহেলা আগষ্ট অবসর ও কল্যান ভাতার জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে কাগজপত্র জমা দেন। অথচ দিনের পর দিন ঘুরেও আজও মেলেনি সেই টাকা।

তার মতো আরও এক শিক্ষক রাকিব উদ্দিন। তিনিও দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে হয়েছেন ক্লান্ত।
দুই শিক্ষকের অভিযোগের সত্যতা উন্মোচনে মাঠে নামে ঘটনার অন্তরালে টিম।

বাস্তবচিত্র জানতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে হাজির হতেই, ক্যামেরা দেখে উঠে আসে আরও অভিযোগ।

অবশেষে সোহরাব হোসেন ঘটনার অন্তরালে টিমের সহযোগীতায় তার চেকের সন্ধান পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাইটিভির প্রতি।

শিক্ষকদের হয়রানী রোধে বর্তমান সরকার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে অবসর ও কল্যান ভাতা প্রদানে ৮ শত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তার পরেও অবসর ভাতার জন্য ২৫ হাজার ৮০৯টি এবং কল্যান ভাতার জন্য ২৮ হাজার আবেদন এখনও ঝুলন্ত রয়েছে। তবে অধিকাংশ আবেদন নিস্পত্তি হলেও বাকি আবেদন নিস্পত্তি করতে এরই মধ্যে অর্থ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অবসর সুবিধা বোর্ড।

তবে জনবল সংকট, স্থান সংকুলান ও আইসিটি সেক্টরের দুর্বলতা দুর করে সংকট সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব।

তবে সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষকদের ভোগান্তিকে কমাতে অবসরে যাবার আগে থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে সংশিষ্ট দপ্তরকে।