অমর একুশে পেরিয়ে গেলেও ক্রেতা-দর্শণার্থীদের ভীড় কমেনি বই মেলায়

0
50

অমর একুশে পেরিয়ে গেলেও বাংলা একাডেমীর বই মেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীদের ভীড় কমেনি। শনিবারও বইমেলায় শিশুপ্রহর, তাই মা বাবার হাত ধরে বই কিনতে এসেছে শিশুরা। শিশু প্রহরের নানা আয়োজন মাতিয়ে রাখে শিশুদের।

রোদেলা দিন। সকাল গড়িয়ে চলেছে। বইমেলা সরগরম। শিশুপ্রহর বলে কথা। নানা সাজ, নানা পোশাকে এসেছে ছোটরা। ছোট ছোট পায়ের সঙ্গে মিলেছে বড় বড় পা। নানা কথা, হুল্লোড়, নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস—মনে হলো এ যেন তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে রূপকথারই জগৎ!

আর বটতলায় যখন সিসিমপুরের টুকটুকি আর হালুমেরা এল, কার আগে কে সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়বে—এ নিয়ে হুড়োহুড়ি। যারা ওদের একেবারে কাছ থেকে দেখছে, ওদের চোখে যেন পলকই পড়ছে না। পেছন থেকে চিৎকার—‘সরো, সরে যাও। আমাদের একটু দেখতে দাও!’

কিন্তু এত কাছে সিসিমপুর পেয়ে কেউ কি আর নড়তে চায়—এমনই উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল আজকের একুশে গ্রন্থমেলার শিশুপ্রহর। শুধু সিসিমপুরের হালুমই ছোটদের মন জয় করেনি, ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের ‘হালুম’ নামের বইটিও ওদের বেশ আকৃষ্ট করে।

তনয়, অভি আর আকাইদ কিনেছে সাকিব আল হাসানের ‘হালুম’। আরও কিনেছে হ‌ুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল আর রকিব হাসানের বই।

আজকের শিশুপ্রহরে ছোট-বড় প্রায় সব বইয়ের স্টলেই খুব ভিড় ছিল। এর মধ্যে প্রথমা, কাকলী, ঐতিহ্য, অন্যদিন, অবসর, অনন্যা, টোনাটুনি, আদিগন্ত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র—এসব প্রকাশনীর স্টলে ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

ইস্কাটন থেকে মেয়ে আয়না রশীদকে নিয়ে বইমেলায় এসেছেন চিকিৎসক মামুনুর রশীদ। আয়না খুবই লাজুক। কথা বলতেই চায় না। বাবা জানালেন, রাজকুমারীর রূপকথার বই কিনবে সে।

শাফি এসেছিল ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সে। সে কিনেছে ভূতের বই। জানাল, গোয়েন্দা কাহিনিও কিনবে।

বইমেলা ঘুরে দেখা গেল, রূপকথা, ভূতের গল্প, গোয়েন্দা কাহিনি, রহস্য উপন্যাস—এসব বই বেশি কিনছে ছোটরা।

মাঠের এক কোণে গলা ছেড়ে চিৎকার এক শিশুর। কত হবে বয়স? এই দুই কি আড়াই। পিঠে ছোট্ট এক ব্যাগ। সেখানে ভাইয়ের কেনা বইগুলো রাখবে সে।

কিন্তু সাত বছরের ভাইটি ছোট বোনের পিঠে ভারী বইয়ের বোঝা চাপাতে রাজি নয়। কিন্তু বাবুটি বই নেবেই। শেষে বাবা একটি বই তার ব্যাগে দিয়ে কান্না থামালেন। তবে বাবার হাতে থাকা পানির বোতলটি ব্যাগে না নিয়ে ছাড়ল না।

ডান্ডা হাতে খোশমেজাজে মেলায় ঘুরছিলেন এক পুলিশ সদস্য। তিনি শাহবাগ থানার এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম। জানালেন, বইমেলার পরিবেশটা অন্য রকম। এখানে কিছুক্ষণ থাকলে মন ভালো না হয়ে উপায় নেই।