অস্কার পুরস্কার হারিয়েছেন যারা!

0
61

অস্কার। আনুষ্ঠানিক নাম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট। মাত্র সাড়ে ১৩ ইঞ্চি লম্বা ট্রফিটি অনেক শিল্পীরই সারা জীবনের আরাধ্য। অস্কার ট্রফি হাতে পাওয়ার পর দুঁদে শিল্পীদেরও আবেগে উদ্বেল হতে দেখা যায়। বাড়ি ফেরার পর উজ্জ্বল সোনালি রঙের ট্রফিটি যত্ন করেই রাখার কথা অস্কারজয়ীদের। তবে সবাই রাখেন না। এমনও কেউ কেউ আছেন, যাঁরা ট্রফিটি কোথায় রেখেছেন, জানেন না! অনেকে আবার সাফসুতরো করতে দিয়ে হারিয়েছেন ট্রফি। আসুন জেনে নিই এমনই কিছু ঘটনার গল্প:

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
‘গার্ল, ইন্টারাপটেড’ ছবিতে লিজা চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ট্রফিটি নিয়েই মায়ের কাছে গিয়েছিলেন জোলি। মাকে নিজের অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপত্তি। দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, ট্রফিটি খুব মূল্যবান বলে সেটিকে একটি গোপন স্থানে রেখেছিলেন জোলির মা। এরপর থেকেই লাপাত্তা। ২০০৭ সালে মারা যান জোলির মা। এরপর মায়ের ব্যবহৃত সব জিনিস অ্যাঞ্জেলিনার কাছে এলেও, ট্রফি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সল্ট নায়িকার বক্তব্য, ‘আমি আসলে এটি হারাইনি। তবে কেউ জানে না, এখন এটি কোথায় আছে।’

মার্লোন ব্রান্ডো
১৯৫৪ সালের ছবি ‘অন দ্য ওয়াটার ফ্রন্ট’। এই ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য অভিনেতা মার্লোন ব্রান্ডোকে দেওয়া হয়েছিল অস্কার। কিন্তু ওই ট্রফির বিষয়ে কিছুই জানেন না ব্রান্ডো। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, ‘“অন দ্য ওয়াটার ফ্রন্ট” ছবিতে অভিনয়ের জন্য যে অস্কার পেয়েছিলাম, সেই ট্রফির এখন কী অবস্থা তা আমি জানি না। সময়ের স্রোতে একটা সময় এটি স্রেফ অদৃশ্য হয়ে গেছে।’ ১৯৭৩ সালেও দ্বিতীয়বার অস্কার পেয়েছিলেন এ অভিনেতা। সেটিরও হদিস নেই। দ্বিতীয় অস্কার ট্রফির ব্যাপারে মার্লোন ব্রান্ডোর বক্তব্য, ‘মোশন পিকচার একাডেমি হয়তো আমাকে ট্রফি পাঠিয়েছিল। যদি তা হয়েই থাকে, তবে আমি জানি না এটি কোথায় আছে।’

হুপি গোল্ডবার্গ
১৯৯১ সালে ‘ঘোস্ট’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর অস্কার জিতেছিলেন হুপি গোল্ডবার্গ। ২০০২ সালে তিনি ট্রফিটি একাডেমিতে পাঠান, সাফসুতরো করার জন্য। চকচকে করার পর ওই ট্রফি পাঠিয়ে দেওয়া হয় হুপির শিকাগোর ঠিকানায়। কিন্তু প্যাকেট ছিল খালি! বেশ সুচারুভাবে অস্কার ট্রফিটি চুরি করা হয়েছিল। বিবিসির খবরে বলা হয়, কিছুদিন পরই ক্যালিফোর্নিয়ার বিমানবন্দরের কাছে এক ডাস্টবিনে পাওয়া যায় হুপির অস্কার। ট্রফি ফিরে পেয়ে গোল্ডবার্গ বলেছিলেন, ‘আর কখনো আমার বাড়ির চৌহদ্দি থেকে বের হবে না অস্কার।’ অস্কার চুরির এ ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশও হয়েছিল।

ম্যাট ড্যামন
বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ড্যামন। একজন এখন ব্যাটম্যান চরিত্রে পর্দা কাঁপাচ্ছেন। অন্যদিকে ম্যাট ড্যামন বেশি পরিচিত ‘বর্ন’ সিরিজের জেসন বর্ন হিসেবে। অথচ হলিউডে এ দুই তারকা শিল্পীর প্রথম পরিচিতি ‘গুড উইল হান্টিং’ দিয়ে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির গল্প লিখেছিলেন অ্যাফ্লেক ও ড্যামন। পরের বছর এর জন্য অস্কার জিতেছিলেন দুজনে। ২০০৭ সালে লন্ডন ডেইলি এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাট বলেন, ‘আমি জানতাম নিউইয়র্কে আমার ফ্ল্যাটেই ট্রফিটি আছে। কিন্তু একবার আমি ও আমার স্ত্রী শহরের বাইরে গিয়েছিলাম। তখন এক দুর্ঘটনায় ফ্ল্যাটের সবকিছু পানিতে ভেসে গিয়েছিল। এরপর থেকেই আর দেখিনি ট্রফিটি।’

কলিন ফার্থ
তোতলা রাজার ভূমিকায় অভিনয় করে অস্কার জিতেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা কলিন ফার্থ। ‘দ্য কিংস স্পিচ’ ছবির কল্যাণে অস্কার জয়ের পরই উদ্‌যাপনে মেতে উঠেছিলেন কলিন। ২০১১ সালে মিররে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, এক পার্টি শেষে টয়লেটে অস্কার ট্রফি ফেলে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কলিন। পরে এক পরিচালক সাড়ে আট পাউন্ড ওজনের ট্রফিটি দেখতে পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেন। তবে এই খবর নাকচ করেছিলেন কলিন ফার্থ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ‘এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে এটি অবশ্যই আমাদের হাসির খোরাক জুগিয়েছে।’

হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল
‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ ছবির ম্যামি চরিত্রটি হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলকে এনে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর অস্কার। ১৯৩৯ সালের ১২তম অস্কার আসরে জেতা ট্রফিটি নিজের কাছে রাখেননি হ্যাটি। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে অনুদান হিসেবে ট্রফিটি দিয়েছিলেন তিনি। অনেক দিন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে হারিয়ে যায় ট্রফিটি। এরপর আর খোঁজ মেলেনি সেটির।