অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে বালুচরে আটকা পড়ে ৯০ তিমির মৃত্যু

0
450

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে বালুর চরে আটকা পড়ে কমপক্ষে ৯০টি তিমির মৃত্যু হয়েছে। উপকূলে আটকা পড়েছিল ২৭০টি তিমি। এর এক-তৃতীয়াংশই মারা গেছে। এ ছাড়া আটকে পড়া বাকি তিমির মধ্যে আরো তিমি মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সোমবার স্থানীয়রা তিমির ওই বিশাল দলটিকে উপকূলে দেখতে পান। তিমিগুলো উপকূলে আটকা পড়েছিল। ফলে পানির অভাবে ছটফট করতে করতেই অনেক তিমির মৃত্যু হয়েছে। বিশালসংখ্যক এই তিমির দলটিকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা।

তাসমানিয়া দ্বীপে দেখতে পাওয়া সামুদ্রিক ডলফিন প্রজাতির এই পাইলট তিমি সাধারণত লম্বায় সাত মিটার বা ২৩ ফুট হয় এবং এগুলোর ওজন হয় প্রায় তিন টন।

কিভাবে ওই তিমিগুলো উপকূলে এসে আটকা পড়ল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৈকতে তিমি চলে আসা ওই অঞ্চলের সাধারণ ঘটনা হলেও গত এক দশকে এত সংখ্যক তিমিকে সাগর থেকে উঠে আসতে দেখা যায়নি।

তাসমানিয়ান মেরিটাইম কনসারভেশন প্রোগ্রামের উদ্ধারকর্মীরা সোমবার ম্যাকোয়ারি হেডস নামে একটি এলাকায় তিনটি দলে তিমিগুলোকে দেখতে পান। দ্বীপের প্রত্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে যাওয়ার তেমন কোনো রাস্তা এবং জলযানও নেই।

অধিকাংশ তিমি ‘অপেক্ষাকৃত দুর্গম স্থানে’ রয়েছে, ফলে উদ্ধারকর্মীদের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। স্তন্যপায়ী এ প্রাণীগুলোকে যন্ত্রের মাধ্যমে ঠেলে বালুচর থেকে গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রায় ৪০ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মীর একটি দল এ কাজ করছেন। প্রাণীগুলো ভাসতে সক্ষম হলে, তাদের আরও গভীর পানিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড উপকূলে প্রায়ই এভাবে দল বেঁধে তিমিদের আসতে দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, এরা দলে দলে চলাফেরা করে এবং এদের একজন দলনেতা থাকে। তাদের মধ্যেই সামাজিক বন্ধন খুব দৃঢ় এবং তারা দলনেতার দেখানো পথেই চলে।

এর আগে ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ড উপকূলে দুই শতাধিক পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছিল।