অস্ত্র মামলায় পাপিয়া দম্পতির ২০ বছরের কারাদন্ড

0
355

অস্ত্র আইনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, গুলি উদ্ধারের মামলায়, অস্ত্র আইনের আরেক ধারায়, তাদের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

দুই ধারার কারাদণ্ড একই সঙ্গে চলবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক। যে কারণে আসামিদের ২০ বছর সাজা খাটতে হবে।

সোমবার ঢাকা মহানগরের ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই রায় দেন। তাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো মামলার রায় দিলেন আদালত।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় আসামি পাপিয়া ও সুমনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁদেরকে আদালতের গারদে রাখা হয়। পরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁদের এজলাসে তোলা হয়। এরপর বিচারক দুপুর ২টা ২২ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁদের সজ্জন রাজনৈতিক নেতা বলা যায় না। তাঁদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ৫৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। আরও পাওয়া যায় বিদেশি পিস্তল।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১২ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছিল।

গত ২৩ আগস্ট পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুরের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই সহযোগীসহ পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করে।

পরে পাপিয়ার ফার্মগেটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড জব্দ করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

গত ২৩ আগস্ট একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের তারিখ ১২ অক্টোবর ধার্য করেন।