অস্ত্র মামলায় শুরু হলো পাপিয়া ও তার স্বামীর বিচার

0
843

শেরেবাংলা নগর থানায় করা অস্ত্র মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিচার শুরু হলো। 

রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগ গঠন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিন ধার্য করেছে আদালত। সেদিন থেকে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।  

এসময় আসামিপক্ষে জামিন ও অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন করা হলে আদালত তা খারিজ করে দেন।  

এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। এর পরপরই শুনানি শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে।

গত ২৯ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র আইনে করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। 

এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র মামলায় পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমানকে পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১০ মার্চ একই মামলায় ফের দুইজনকে পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে শামিমা নূর পাপিয়ার রাজধানীর ফার্মগেটের ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে অবস্থিত রওশন’স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে পাপিয়া দম্পতির দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।