অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
145

রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আরেকটি ধারায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘সাহেদ যে অপরাধী তা মামলার রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।’

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, ‘সাহেদ নিজ হেফাজতে অবৈধ পিস্তল রাখায় যাবজ্জীবন ও গুলি রাখায় সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘আমাদের সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশে অনেক লোক রয়েছে। এ মামলার রায় এর দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। সাহেদ ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে গাড়িটি ক্রয় করেন। কিন্তু সে আদালতের কাছে তা স্বীকার করেনি। সাহেদ তা জানা সত্ত্বেও আদালতের কাছে মিথ্যা তথ্য দেয়। সাহেদ অত্যন্ত চালাক ও ধুরন্ধর ব্যক্তি। সাহেদ গাড়িতে অস্ত্র রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সে আদালতের কাছে কোনো অনুকম্পা পেতে পারে না।’

এদিন রায় ঘোষণার আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাহেদকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। এসময় তাকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতের গারদ খানায় রাখা হয়। এরপর ১টা ৫৭ মিনিটে তাকে এজলাসে হাজির করা হয়। এরপর দুপুর ২টায় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। তারপর ২টা আট মিনিটে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। 

উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই সাহেদকে নিয়ে উত্তরার বাসার সামনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে সাহেদের নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকার থেকে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পিস্তল এবং একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করা হয়।