আইলার ১০ বছর; উপকূলে এখনো রয়ে গেছে সেই ক্ষত

0
180

ফয়জুল হক বাবু:

প্রলয়ঙ্করি জলোচ্ছাস ও ঘুর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় এলাকায় এখনো রয়ে গেছে সেই ক্ষত।

আজও টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস যেন উপকূলবাসীর জন্য আতঙ্ক।

জান-মালের নিরাপত্তায় টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণসহ সাইক্লোন সেল্টার বাড়ানোর দাবি তাদের।

২৫ মে ২০০৯। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলা উপকূলে আঘাত হানে আজ থেকে ১০ বছর আগের এই দিনে। লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি, বাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা।

জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রাণ হারায় ১৯৩ জন মানুষ।প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পরই কথা ছিল সাতক্ষীরায় বেরিবাঁধের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।

তবে উপকূলের মানুষের প্রাণের সেই দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস, ভাবিয়ে তোলে এখানকার মানুষকে।

জলোচ্ছাসের কারণে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায়, এখনো কৃষিপণ্য আবাদের উপযোগী হয়নি এখানকার মাটি। ফলে কমেছে কর্মসংস্থান।

স্থানীয়রা বলছেন, অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না এখানকার মানুষের, শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে শিশুরা। নেই প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টারও।

আইলা পরবর্তী পূনর্বাসনের নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, বাঁধগুলোর ক্ষেত্রেও রয়েছে পরিকল্পনা।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানালেন, আগামী শুষ্ক মওসুমেই শুরু হতে পারে বাঁধগুলোর সংস্কার কাজ।

জীবন মানের উন্নয়ন আর যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জান-মালের নিরাপত্তায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি উপকূলবাসীর।