আক্রমণের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে অস্ত্র ব্যবহার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
208

সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি কিংবা পুলিশ যারাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কান কামাল।

সকালে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের কাছে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন মন্ত্রী। আইন সবার জন্য সমান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন সরকার আইনের বাইরে কাউকে প্রশ্রয় দেয় না।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে অপরাধীদের ধরতে আক্রমণের শিকার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধ্য হয়ে পাল্টা আক্রমণ বা অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হাই প্রোফাইলের মাদক ব্যবসায়ীদের যখনই ধরতে গিয়েছি- হয় তারা পালিয়েছে, নয়তো তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে যা করার, তারা তাই করছে।’

গত কয়েকদিনে বেশ কিছু ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। যাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ব্যবসায়ী বলছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আধুনিক সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। এসব অস্ত্র পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।

ফলে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আমরা পরিষ্কার বলছি, আমরা কারো বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে যাচ্ছি না। যারা ফায়ার ওপেন করে, তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী অ্যাকশন নিচ্ছে। গেল সাত বা আটদিনে শুধু মৃত্যের ঘটনা নয়, প্রায় ২ হাজারেরও অধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিনষ্ট করতে চাই না। তাই যেকোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা করব।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) বদির মাদক ব্যবসা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন- যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সে যাই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। বদির বিরুদ্ধে আমরা আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। যথাযথ তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এবারের অভিযানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। সে সংসদ সদস্য হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আর সাংবাদিক হোক; আমরা কাউকে ছাড় দিব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক আমাদের দেশে তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এগুলো ব্যাপকভাবে আমাদের দেশে আসছে। বর্ডারের কোনো কোনো স্থান দিয়ে যখন এসব মাদক আমাদের দেশে ঢুকছিল, তখন আমরা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলাম না। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। ভারত ও মায়ানামারের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। তারা যখন খুব ভালো সহযোগিতা করছিলেন না, তখন আমরা বাধ্য হয়েই দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের অভিযান করছি।’