আজীবন বাসায় থেকে কাজ করার সুবিধা দিবে টুইটার

0
287

করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় অনেক জায়গায় অফিস খুলতে শুরু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান টুইটার হাঁটছে ভিন্ন পথে। করোনা পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কর্মীদের জানানো হয়েছে, তারা চাইলে আজীবন বাসা থেকেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, টুইটার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা লকডাউন পরিস্থিতিতে বাড়ি বসে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। তাই তারা কর্মীদের ইচ্ছানুযায়ী আজীবন বাড়ি বসে কাজের সুযোগ বহাল রাখবে। তবে কেউ যদি অফিস খোলার পর ফিরতে চান, সে ব্যবস্থাও থাকবে।

এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে গুগল ও ফেসবুক জানিয়েছে, বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করতে পারবেন।

বাসা থেকে কাজ করার ঘোষণায় টুইটার বলেছে, ‘গত কয়েক মাসে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আমরা এটা (বাসা থেকে কাজ) করতে পারছি। সুতরাং আমাদের কর্মীরা যদি বাসা থেকে কাজ করার মতো দায়িত্ব ও পরিস্থিতিতে থাকে এবং তারা যদি বাড়িতে বসেই আজীবন কাজ করতে চায়, আমরা সেই ব্যবস্থা করবো।’

ঘোষণায় বলা হয়, যেসব কর্মীরা অফিস করতে আগ্রহী, টুইটার তাদের সেই ইচ্ছাকেও স্বাগত জানাবে। তবে সেক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থায়ীভাবে বাসা থেকে অফিস করার টুইটারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। প্রতিষ্ঠানটির এ সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিজিটাল উদ্ভাবন বিশেষজ্ঞ শ্রী শ্রীনিবাসন।

স্টোকি ব্রুক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জার্নালিজমের এই ভিজিটিং প্রফেসর বলছেন, ‘অনেকে হয়তো টুইটারের মতো এত গভীরভাবে বিষয়টিকে গ্রহণ করেনি। তবে কাজের পরিবেশ কীভাবে আরামদায়ক করে তোলা যায়, তা নিয়ে সিলিকন ভ্যালির এই কোম্পানির কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।’

তিনি বলেন, ‘একটা ধারণা আছে যে, বাসা থেকে কাজ করার মানে হলো কাজে ফাঁকি দেওয়া এবং অফিসে চেহারা দেখানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কর্মীরা এখন প্রমাণ করছেন যে, তারা বাসা থেকেও ভালো কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। অনেকেই আমাকে বলেছেন, বাড়িতে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।’

বিশ্বজুড়েই কোম্পানিগুলো এখন উপায় বের করার চেষ্টা করছে, কীভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আস্তে আস্তে অফিসগুলো পুনরায় চালু করা যায়।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ৪ হাজারের বেশি কর্মী সানফ্রান্সিকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টুইটারে কাজ করেন। গত মার্চ মাস থেকে কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজের সুযোগ দেয় টুইটার। সেপ্টেম্বর নাগাদ অফিস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।