এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু; অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী

0
54

বাংলাদেশের দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে সোমবার থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যাতে অংশ নেবেন ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী।

প্রথম দিন এইচএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্র এবং ডিআইবিএস-এ বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হবে।

আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ‍কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হবে।

উচ্চ মাধ্যমিকের এই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ‘সাধ্যমতো’ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে পরীক্ষার আগের দিন জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

রোববার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আগামীকাল (সোমবার) থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো, মানুষের সাধ্যে যা কুলায়- অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো সব কিছু যুক্ত করে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করি, এবার সুষ্ঠু পরিবেশে ভালো পরীক্ষা হবে।”

সোমবার সকাল ৯টায় শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন।

আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন।

শিক্ষামন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, এবার ৮ হাজার ৯৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষায় বসবে।

এবার এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে এক লাখ ১২৭ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন এবং ডিআইবিএসে ৯৬৯ জন পরীক্ষা দেবে।

এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ জন ছাত্রী।

ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন, এরমধ্যে ১৫৯ জন ছাত্র এবং ১৪০ জন ছাত্রী।

এবার ২৮টি বিষয়ের ৫৪টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। গত বছরও ৫৪টি পত্রে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়।

গত এসএসসির মত এইচএসসিতেও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে পরীক্ষার প্রশ্নের সেট।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ওও পরীক্ষা সংশিষ্টরা বাদে অন্যদের ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

এবারও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবেন।

আর অটিস্টিকসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা পাবেন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।