আনন্দ উৎসবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব

0
147

আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথমদিন। স্বাগতম ২০১৮। অন্যদিনের মতো আজও সূর্য উঠেছে প্রকৃতির নিয়মে।  উদীত সে সূর্যের আলোতে আলোকিত হবে একটি নতুন দিন, একটি নতুন বছর। পুরনো জরা-গ্লানি-হতাশাকে পেছনে ফেলে আবারও নতুন সম্ভাবনা আর স্বপ্নের জাল বোনা হবে প্রতিবারের মতোই।

ক্যালেন্ডারের ২০১৭ সালের শেষ পাতাটি ‘কালের যাত্রা’য় হারিয়ে গেলো ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে। অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার মধ্যে শেষ হলো আরো একটি বছর। সেই সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা আর স্বপ্নের উদ্ভাস নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর ২০১৮।

নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ স্বাগত জানায় খ্রিস্টিয় নতুন বছরকে। মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।

গত বছরের মতো এবারও রাজধানীবাসীকে ঘরের ভেতরেই খ্রিষ্টীয় নববর্ষ পালন করতে হয়েছে। এবার ছাদের ওপর উৎসবেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর চার দেয়ালের ভেতরে উৎসব করলেও পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে গতকাল রোববার রাত ১২টার আগেই রাজধানীর সড়কগুলো ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। আর উৎসব উদ্‌যাপনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুলশান এলাকায় কেবল বিপুলসংখ্যক র‍্যাব-পুলিশ আর গণমাধ্যমকর্মীদেরই দেখা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় নগরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নিয়ে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

রাতের ঢাকা পাহারা দিতে মহানগর পুলিশ নামিয়েছে সোয়াট আর বোমা অপসারণকারী দলকেও। রাতের আকাশ থেকে সার্চলাইট ফেলে টহল দিতে দেখা গেছে র‍্যাবের হেলিকপ্টারকে। ছিল প্রচুর তল্লাশিচৌকি আর বাড়তি টহল। এরপরও রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে ঝলকে ওঠে প্রচুর আতশবাজি। প্রচুর ফানুসও উড়তে দেখা যায়।

গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ আটকে চলাচল কঠোর নিয়ন্ত্রিত করে পুলিশ। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় টিএসসি, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায়।

ঢাকায় চার দেয়ালের মধ্যে নতুন বছরকে স্বাগত জানালেও সারা বিশ্ব নববর্ষের উৎসবটি পালন করেছে ঘরের বাইরে।

গেল বছরে নানা জনবহুল স্থান সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে শঙ্কা ছিল। তাই নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানে ছিল কড়া নিরাপত্তা। তবে শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে শেষে জয় হয়েছে উচ্ছ্বাসের।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে নানা রঙের আতশবাজি ফুটিয়ে ২০১৮ সালকে বরণ করে নেওয়া হয়। শহরের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অন্যদিকে, তাসমান সাগরের আরেক দেশ নিউজিল্যান্ডেও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ঘড়িতে রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ার ভবন থেকে আতশবাজি ফোটানো হয়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ছাড়াও এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলেও ২০১৭ সালকে বিদায় জানিয়েছে মানুষ।

হংকংয়ে মধ্যরাতে প্রায় ১০ মিনিট ধরে সুরের তালে তালে আতশবাজি ফোটানো হয়। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় নতুন বছর উপলক্ষে গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সরকারি উদ্যোগে এ সময় মোট ৫০০ জন দম্পতির বিয়ে হয়। এ ছাড়া নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশটির মূল সড়ক ও পর্যটন স্থানগুলোয় ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

দুবাইয়ে আতশবাজি ফোটানোর সঙ্গে সঙ্গে ছিল লেজার শোর আয়োজন। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফাতে লেজার শো আয়োজন করা হয়। রাশিয়ার মস্কোতে মূল সড়কগুলোর মোড়ে আতশবাজি পোড়ানো হয়।

অন্যদিকে, ফ্রান্সে হাজার হাজার মানুষে মুখরিত ছিল প্যারিসের রাস্তা। নানা রঙের আলোয় সাজানো হয় বিভিন্ন ভবন। গত দুই বছরের মধ্যে এবারই প্যারিসে নতুন বছর বরণের অনুষ্ঠানে এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল নিশ্ছিদ্র। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য।

শুধু ফ্রান্স নয়, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন বছর বরণের আয়োজনে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা লক্ষ করা গেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

গ্রেট ব্রিটেনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে বছর গণনা শুরু হয়। এটি প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেট ব্রিটেনে এ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয়। এ ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের আগে নাম ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার মিসর দেশে প্রচলিত ক্যালেন্ডারটি রোমে এনে তার কিছুটা সংস্কার করে তার রোম সাম্রাজ্যে চালু করেন। এ ক্যালেন্ডারে জুলিয়াস সিজারের নামে জুলাই মাসের নামকরণ করা হয়। মিসরীয়রা বর্ষ গণনা করতো ৩৬৫ দিনে। মিসরীয়দের ক্যালেন্ডার সংস্কার করে জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার রোমে প্রবর্তন করলেন তাতে বছর হলো ৩শ’ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে। তবে মিসরীয় ক্যালেন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন এ ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দে। ইংরেজি নববর্ষের প্রবর্তন নিয়ে ভিন্ন মতও আছে।

পশ্চিমা বিশ্ব এ দিনকে বিশেষ গুরত্ব দিয়ে পালন করে আসে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ইংরেজি নববর্ষকে স্মরণ করতে বিশেষ আয়োজনে মেতে ওঠে। রাজধানী ঢাকায় এ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে দেশের অন্য শহরগুলোতেও।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ উপলেক্ষে রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলগুলোও বিশেষ আলোকসজ্জা করেছে