আবু সাঈদ অপু :

আবারও মাথা চড়া দিয়ে উঠছে প্রতারণার ফাঁদ বলে পরিচিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর বেশ কয়েকটি কোম্পানী। গ্রামের অসহায় মানুষকে টার্গেট করে বিলাসী জীবন-যাপনের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে তারা। আর ডান হাত কিংবা বাম হাত জোগাড় করলেই ফকির থেকে কোটিপতি হওয়ার গল্পতো রয়েছে।

তবে আইনের গ্যাড়াকল থেকে বাঁচতে এই প্রতারক কোম্পানীগুলো পণ্য কেনা বেচার নামে কৌশল পরিবর্তন করে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা চালাচ্ছে। প্রিয় দর্শক তাই এবার তুলে ধরা হয়েছে ঘটনার অন্তরালে। আবু সাঈদ অপুর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

১৯৯৬ সালে ধনী বানানোর গল্প দিয়ে প্রতারণার যাত্রা শুরু করে যুবক নামের একটি সংগঠন। এতে সর্বস্ব হারায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক। আর ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লুটে নেয়ার গল্পতো সবারই জানা।

এরপর বড়-সরো পরিসরে প্রকাশ পায় ডেসটিনি। স্বপ্ন পূরনের প্রত্যাশা নিয়ে নাড়িয়ে দেয় গোটা বাংলাদেশ। সেখানেও প্রতারণার শিকার হয় ৪৪ লাখ গ্রাহক। আর সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বেশ ক’টি মামলা এখন বিচারাধীন।

এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আর ক্ষোভের কমতি নেই। সরকারি -বেসরকারি কিংবা আইনজীবি পুলিশ এমন কেউ নেই যে প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়নি।

প্রতারণা রোধে সরকার ২০১৩ সালে মাল্টি লেভেল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ আইন করে। আবেদনের হিসেব-নিকেশে ৩৭টি তালিকাভুক্ত হলেও অনুমোদন পায় ৪টি কোম্পানী। পরে সেগুলোও বাতিল করা হয়। তার মানে বর্তমানে দেশে সব এমএলএম কোম্পানী অবৈধ।

তাহলে কিভাবে চলছে ঢাকা, লক্ষীপুর, খুলনা, বরিশাল,চাঁদপুর,টাঙ্গাইল, নেয়াখালী, বগুড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ, কমিল্লা, নারায়নগঞ্জ, সিলেটসহ ১৯ টি জেলায়। আর সেই অনুসন্ধানে মাঠে নামে ঘটনার অন্তরালে টিম। শুরুতেই গন্তব্য মগবাজারে। ৪ তলায় এই কোম্পানীর অফিসে কি হয় ? ম্যানেজারের কাছেও নেই সদুত্তর।

সেই একই প্রতারণা। শুধু পণ্য পরিবর্তন করে চালু করা হয়েছে হয়েছে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ব্যবসার কৌশল। এক একেকটি সেমিনারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় সদস্য। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী নারায়নগঞ্জ ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় তিয়ানশি মাল্টিলেভেল মার্কেটিয়ের মস্তিষ্ক ধোলাই করার সেমিনার।