আরো জেঁকে বসবে শীত

0
109

সারাদেশে তাপমাত্রা গত কয়েকদিনে হঠাৎ নেমে গেছে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, ২ দিনে ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডা লাগছে বেশি। আর তাতে কাঁপছে সারাদেশ। যশোর এবং চুয়াডাঙ্গায় রয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

কঠিন শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরে দীর্ঘসময় সূর্যের দেখা না পাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারছে না মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

বিবিসি বাংলার কাছে রাজশাহী শহরের আসাম কলোনীর রিকশা চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঠান্ডায় সকালে বের হওয়া যায় না। কোন রকমে একটা ব্যবহৃত জ্যাকেট কিনেছেন তিনি। কিন্তু তাও এ ঠান্ডার জন্য যথেষ্ট নয়।

রিকশা চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় রিকশা চালাতে অসুবিধা হয়। চোখে পানি পড়ে, নাক দিয়ে পানি পড়ে, হাত-পাও ব্যথা করে। ঠান্ডায় ভালো ব্যথা করে। পুরাতন একটা জ্যাকেট কিনছি তাই। ভোরে বের হতে হয়, বসে থাকা লাগে। সেরকম দেড়-দু’শ টাকার মতো কাজ করতে পারতাম এখন তাও পারছি না।

গতকাল (৫ জানুয়ারি) দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। যশোরে সাতশ উপজেলার শিববাস গ্রামে নুর মোহাম্মদ খান মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। ভোরের আলো ফোটার আগে তাকে উঠতে হয়। তিনি বলেন, ভীষণ কষ্ট মানে মেঘ ছিল প্রায় ১০টা পর্যন্ত বেলা দেখা যায়নি। ঠান্ডায় কৃষক মাঠে যাইতে পারেনি। বাতাস থাকায় কৃষক কাজ বন্ধ করে বাড়ি ফিরে গেছে। গ্রামে যারা আছে তারা ছেলে-পুলে নিয়ে আগুন পোহায়। গত বছরের তুলনায় এবার অতিরিক্ত শীত পড়েছে।

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, মাঝারি আকারের শৈত্য প্রবাহ রয়েছে সারাদেশে। কিন্তু অনুভূত হচ্ছে আরো বেশি ঠান্ডা। বাংলাদেশের কাছাকাছি সময়ে আবহাওয়া ছিল ঠিক অন্যরকম ভারি বর্ষণ, বন্যা, অসময়ে সামুদ্রিক নি¤œ চাপ। অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কয়েকটি উদাহরণ সে সাথে এ মৌসুমে শৈত্য প্রবাহ অন্য সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে এসেছে। ডিসেম্বরের তাপমাত্রা ছিল আগের বছরের ডিসেম্বরের থেকে বেশি। মাত্র কয়দিন আগেও অন্ততঃ ঢাকা শহরের মানুষজনের আলাপের বিষয় ছিল শীত কেন কম? কিন্তু হঠাৎ এ যেন উল্টোটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার কারণ কী?

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, হঠাৎ কমে যাওয়ার বিষয়টি হলো আমাদের এ জায়গায় যে শীতটা আছে নরমালি যে আকাশের উপরের স্তরে বাতাসটা থাকে। আমরা যেটা ‘জেট উইন্ড’ যা হিমেল হাওয়ার ওপরে দেখা যায়। এই জেট উইন্ড স্তর অনেকখানি নিচে নেমে এলে ঠান্ডা পড়ে। এ লেবেলটা নরমালি যেটা হয় দিল্লীর উত্তর প্রদেশে। আমাদের উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর দিয়ে প্রবেশ কর্ েএবারও সেরকমই হয়েছে। ওয়েস্ট টেম্পারাচার যেটা হয়েছে যশোর বা চুয়াডাঙ্গার দিকে কম আছে। এদিকে টেম্পারাচার একটু বেশি আছে।

তিনি আরো বলেন, এবার আসলে যেটা হয়েছে একটু দেরিতে ডিসেম্বর নরমালি একটা দুটা শৈত্যপ্রবাহ আসে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে এবার ডিসেম্বরে আসেনি ডিসেম্বরে যেটা ছিল সেটা জানুয়ারিতে এসেছিল। জানুয়ারির ১ তারিখ, ২ তারিখ যেটা ধরেন ঢাকাতে ১ তারিখে ছিল ১৭ ডিগ্রি, ২ তারিখে এসে ১৪ ডিগ্রি, ৩ তারিখে এসে ১০ ডিগ্রি দেখা যাচ্ছে। দুদিনে ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে গেছে এজন্য মানুষের ভিতরে শীতের যে অনুভূতিটা অনেক বেড়ে গেছে। ৭ ডিগ্রি যদি ধীরে ধীরে কমতো তাহলে শীতের অনুভূতিটা বুঝা যেত না।

এ মাসে আরো দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সামনে তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।