আলোচনার মাধ‌্যমে ভাস্কর্য ইস্যুর সমাধান হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
190

জাতির জনকের ভাস্কর্য ইস্যুতে কওমি আলেমদের সঙ্গে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ধোলাইপাড়ে মুজিব মিনার নির্মাণসহ ৫টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন আলেমরা। শুরু হওয়া আলোচনা চলবে, আলোচনার মাধ্যমেই সেটি থাকবে কি থাকবে না তা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনে সোমবার রাতে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম মতবিনিময় করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ ডিসেম্বর সারাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মাহমুদুল হাসানের ডাকে এক হয়েছিলেন। সেখানে তারা অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি পত্র তারা প্রেরণ করেছিলেন, সেই পত্রের কপিও তারা আমাদের দিয়েছেন। সেটার বিষয়ে আলাপ-আলোচনার বিষয়েই আমাদের ওখানে গিয়েছিলেন। একটা ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে।’

‘ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। আমরা যে সমস্ত আলাপ করেছি, আরো আলাপ হবে। আমরা মনে করি আলাপের মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করতে পারবো। আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। আলাপ-আলোচনার মধ্যে যে সমস্ত কথাবার্তা বেরিয়ে এসেছে সে বিষয়ে আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো।’

কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা সবগুলো বিষয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব। আলাপ-আলোচনা যে শুরু হয়েছে, এটা চলবে।’

ভাস্কর্যের বিষয়ে তারা কী বলেছেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলাপ করবেন। আলাপ শুরু হয়েছে, আলাপের মাধ্যমেই আমরা এগুলো সব শেষ করব।’

তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পরিবর্তে মুজিব মিনার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তারা কি এখনও সেই অবস্থানে আছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যথার্থই বলেছেন, ওখানে একটি মুজিব মিনার তৈরি করার জন্য, কুতুব মিনারের আদলে। তারপর তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন। সবকিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।’

‘আমরা যতটুকু আলাপ করেছি আমরা মনে করি একটি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই আবেদন রেখেছেন, কেউ যাতে রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর না করেন। কেউ যেন এসে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, এই ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ঐকমত্যে আসছেন।’

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘ফেসবুকে নানা ধরনের উত্তেজনা ছড়ানোর যে প্রয়াস চলছে, সেইগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলেছেন। তারা বলেছেন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। আমাদের অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোথাও যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন কেউ না করেন সেই আহ্বানও তারা রেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচটি দাবি তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শেষ কতে চান। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা করতে পারব।’

ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সরকার দোটানায় আছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দেব না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে শেষ করব। ভাস্কর্য যেখানে যেভাবে আছে সেইভাবে থাকবে কি থাকবে না, আমরা সবগুলো নিয়ে আলোচনা করছি।’

ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে সরকার কি নমনীয়- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নমনীয়র কথা আমি বলিনি। আমরা বলেছি আলোচনার মাধ্যমে শেষ করব। সেখানে ভাস্কর্য থাকবে না- এটা আমি কখনও বলিনি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এগুলো শেষ করব। আমি স্পষ্ট করে বলছি, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে ভাস্কর্য ওখানে থাকবে না, ওখান থেকে সরিয়ে দেব। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এই জায়গায় অন্য কিছু হবে।’

‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন, আমরা প্রস্তাব দেব। তিনি রাজি হলে দেখা করবেন। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রাখাও আমাদের কর্তব্য। উনি যদি দেখা করতে ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে নিশ্চয়ই দেখা হবে।’

এই পরিস্থিতিতে ভাস্কর্য নির্মাণকাজ কি চলমান থাকবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘চলমান তো আছেই। সেগুলো সবই আপনারা দেখছেন। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই শেষ করব।’