ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার ‘যুদ্ধে’ প্রতিশোধের হাতছানি

0
71

মরিয়াম জাহান:

পুতিনের দেশে আপাতত স্লোগান একটাই, ‘ইটস কামিং হোম’। ঘরে আসছে বিশ্বকাপ! কতবছর পরে? জিজ্ঞাসা করলেই ইংরেজ সমর্থকরা গাঁট গুনে বলে দিচ্ছেন, ৫২ বছর পরে।

শেষ বার জিওফ হার্স্ট, গর্ডন ব্যাঙ্কস, ববি চার্লটনদের হাতে বিশ্বকাপ দেখেছিল ইংল্যান্ড। এবার হ্যারি কেন, ডেলে আলি’দের পালা।

তবে তার আগে তো ক্রোয়েশিয়ার বাধা পেরোতে হবে! ক্রোটদের উপরে ফেলতে কোনও সমস্যাই হবে না, এমনটাই বিশ্বাস ইংরেজদের। দল সেমিফাইনালে উঠতেই হিথরো থেকে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গের উড়ানে বেড়েছে ইংরেজ সমর্থকদের সংখ্যা।

তবে কীভাবে এই ভোলবদল? ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রমরমা সারা বছর। তবে বিশ্বকাপে প্রত্যেক বারেই মাঝারি মানের দল হিসেবেই ধরা হয় ইংল্যান্ডকে। বলা হয়, ইংল্যান্ডের দৌঁড় প্রি কোয়ার্টার কিম্বা খুব বেশি হলে কোয়ার্টার।

কিন্তু এই দলকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। গ্যারেথ সাউথগেট মোটেই বিশ্বফুটবলে সম্ভ্রম জাগানো নাম নন। কিন্তু লো প্রোফাইল এই কোচই মোক্ষম সুতোয় বেঁধেছেন ইংল্যান্ডকে। ওয়েন রুনি-র মতো বুড়ো ঘোড়াকে বাদ দিয়েছেন।

তরুণ রক্তের আমদানি করেছেন। হ্যারি কেন তো প্রতিষ্ঠিত তারকা কিন্তু ডেলে আলি, রহিম স্টার্লিং, হ্যারি মিগুয়েরদের, লফটাস চিকদের মতো উঠতে তরুণদের ঝাঁকে ইংল্যান্ডের হীন্যমনতাই উধাও।

পাশাপাশি তারকা কিপার জো হার্টকে বাদ দিয়েছেন। নিয়ে এসেছেন পিকফোর্ডকে। এভার্টনে খেলা জর্ডন পিকফোর্ডের উচ্চতা নিয়ে তাঁর নির্বাচনে অনেকেই সরব হয়েছিলেন।

তবে তিনি বিশ্বকাপে গোলকিপিংয়ের সংজ্ঞা নতুন করে লিখছেন। হ্যার কেন-এর বিষয়ে বলা হচ্ছে, অ্যালান শিয়েরারের পরে এমন বক্স স্ট্রাইকার আগে আসেননি ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে।

অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়াও ফুটছে। ক্রোটদের এই স্কোয়াডটাই নাকি তাঁদের ফুটবল ইতিহাসে সেরা। এর আগে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে ডাভর সুকের বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন। গোটা বিশ্বের সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছেন। তবে দলগত সংহতিতে এই দলটাই সেরা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

রিয়াল ও বার্সায় খেলা লুকা মদ্রিচ, কোভাসিচ এবং ইভান র‌্যাকিটিচরা যেমন রয়েছেন স্কোয়াডে। তেমনই মান্দুকিচের মতো তারকা স্ট্রাইকার রয়েছেন। ইন্টার মিলানের ইভান পেরিসিচকে তো ইতিমধ্যেই ইউরোপের বড় ক্লাব গুলি নিতে আগ্রহী।

লিভারপুলের লভরেন, তুরস্কের বেসিকতাসে খেলা ভিদা, ফ্র্যাঙ্কফুটের আন্টে রেবিচদের ক্রোয়েশিয়া তাঁদের দেশের ফুটবল ইতিহাসে সেরা প্রজন্ম। গোলকিপার সুবাসিচ নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন প্রতিটি ম্যাচেই।

ইতিহাস কড়া নাড়ছে। ঠিক দশ বছর আগে ইউরোয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে স্টিভ ম্যাকলারেনের ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করেছিল ক্রোয়েশিয়া। ইউরোয় খেলা হয়নি ইংরেজদের। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে নাকি ইংল্যান্ড প্রতিশোধের বৃত্ত সম্পন্ন করবে, সেটাই আপাতত দেখার।