ইউএনও ওয়াহিদাকে এখনই বিদেশ পাঠানোর প্রয়োজন নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
384

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রবিবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁকে দেখার পর তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছেন। আমাদের এখানকার চিকিৎসকেরা তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরা তাঁর খোঁজখবর রাখছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তাঁর খোঁজ নিচ্ছেন।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আগামীকাল সকালে ৭২ ঘণ্টা শেষ হবে। এখনও ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়নি। দোয়া করি, ইনফেকশন যেন না হয়। আমি নিজ চোখে দেখে আসছি, রোগী সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আছেন এবং সবকিছু ভালোভাবে চলছে। এখন রোগী যে পর্যায়ে আছেন, তাতে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয়, তখন সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ওয়াহিদাকে তত্ত্বাবধানকারী অধ্যাপক জাহেদ হোসেন জানান, তিনি জ্ঞান হারানোর আগের ঘটনা মনে করতে পারছেন—এটা ভালো লক্ষণ। তাঁর জ্ঞানের মাত্রা শতভাগ ঠিক আছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওয়াহিদার হার্ট, রক্তচাপ, স্নায়ুতন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে। অক্সিজেন সেচুরেশন স্বাভাবিক আছে। তাঁর শরীরের ডান পাশ এখনো অবশ। এ জন্য তাঁকে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াহিদা খানমের মাথায় এখনো ব্যথা আছে। তাঁর মাথায় অনেকগুলো আঘাত ছিল। এ কারণে ব্যথা থাকাটা স্বাভাবিক। মাথার ব্যথাটা কিছুদিন থাকবে, পরে ধীরে ধীরে কমে যাবে।’

এদিকে ওয়াহিদা খানমকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে আজ সকালে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসভবনে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে। সেসময় তার বাবা বাঁচাতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমান তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউএনও ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।