ইউএনও ওয়াহিদার সব প্যারামিটারেই উন্নতি, খাচ্ছেন তরল খাবার

0
390

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সব প্যারামিটারই ভালো। স্বাভাবিক সেন্স ফিরেছে। মুখে খাচ্ছেন তরল খাবার। তাকে কেবিনে স্থানান্তরের বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ইউএনও’র সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিউ) পর্যবেক্ষণে থাকা ইউএনও ওয়াহিদা মুখে তরল খাবার খাচ্ছেন।  তার জ্ঞানের মাত্রা সুস্থ মানুষের মতোই আছে। অন্যান্য কন্ডিশনগুলোরও মোটামুটি উন্নতি হয়েছে।  শুধু ডান হাতটা আগের মতোই আছে, সেখানে ফিজিওথেরাপি চলছে। ফিজিওথেরাপি চলার পর কতটুকু উন্নতি হয় সেটা সময় হলে বোঝা যাবে।

ইউএনওকে এইচডিইউ থেকে স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে বেডে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। যেহেতু এখানে কিছু নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে, সেজন্য আমরা তাকে এখনো এইচডিইউতেই রেখেছি। তবে কেবিনে নেওয়ার বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত হবে। মেডিক্যাল বোর্ড বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ওয়াহিদা এখন শঙ্কামুক্ত কি না, এ ব্যাপারে জাহেদ হোসেন বলেন, শঙ্কামুক্ত বলাটা কঠিন। তবে যে কন্ডিশনের জন্য তিনি খারাপ ছিলেন, সেই কন্ডিশনটা ইমপ্রুভ হয়েছে। মোটামুটি সব প্যারামিটারেই তাঁর উন্নতি হয়েছে। ওনার পালস-ব্লাড প্রেশার, মানসিক কন্ডিশন, জ্ঞানের মাত্রা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার সবকিছু চিন্তা করলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২রা সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ইউএনওর মাথায় গুরুতর আঘাত এবং তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।