ইন্দিরা গান্ধীকে ৮০ বোতল রক্তেও বাঁচানো যায়নি

0
128

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার। ১৯৮৪ সালের এদিনে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যা করেন তারই দুই দেহরক্ষী সৎবন্ত সিংহ ও বিয়ন্ত সিংহ। সৎবন্ত ও বিয়ন্ত এ দুই শিখ দেহরক্ষীর ২৮টি বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় ইন্দিরার দেহ।

গুলিবিদ্ধ ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে যাওয়া হয় নয়া দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স- (এইমস) এ। ৮০ বোতল রক্ত দিয়েও প্রাণ বাঁচানো যায়নি তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। জগদেব সিং গুলেরিয়া, এমএম কাপুর ও এএস বলরাম অনেক চেষ্টা করেছিলেন। এই তিন চিকিৎসকদের সব ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ইন্দিরাকে প্রথম গুলিবিদ্ধ করেন বিয়ন্ত সিং। ৩টি বুলেট পাকস্থলি, বুক–পিঠ, বাহুমূল ভেদ করে চলে যায়। পরে থম্পসন অটোমেটিক কার্বাইন থেকে গুলি ছুঁড়ে অপর দেহরক্ষী সন্তবন্ত সিং ঝাঁঝরা করে দেয় ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেহ।

ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালের এদিনে হত্যা করায় ভারতের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত দিনটি। শিখদের সর্বোচ্চ তীর্থস্থান হরমন্দির সাহিব। যা ‘স্বর্ণমন্দির’ নামের পরিচিত সেখানে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ সেনা অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে ইন্দিরার দুই বডিগার্ড সৎবন্ত ও তার শরীর ঝাঁজরা করে দেন।

আইরিশ টেলিভিশনে নির্মীয়মান একটি তথ্যচিত্রে ব্রিটিশ অভিনেতা পিটার উস্তিনভকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা ছিল ইন্দিরা গান্ধীর। নয়া দিল্লির ১ নং সফদরজঙ্গ রোডস্থ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্যানপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

সৎবন্ত ও বিয়ন্ত সিংহের দ্বারা রক্ষিত একটি ছোটো দরজার ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা সরাসরি ইন্দিরা গান্ধীকে গুলি করে। বিয়ন্ত সিংহ ধার থেকে তিন রাউন্ড এবং সৎবন্ত সিংহ নিজের স্টেনগান থেকে তাঁর প্রস্টেট লক্ষ্য করে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। অন্যান্য দেহরক্ষীরা বিয়ন্তকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করে এবং সৎবন্তকে গ্রেফতার করে।

গুলিবিদ্ধ ইন্দিরাকে দিল্লির হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করে ১৯টি বুলেটের ৭ টি বের করতে সক্ষম হয় চিকিৎসকরা। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর প্রাণ পাখি উড়ে যায়। ৩ নভেম্বর নয়া দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলের নিকটে শক্তিস্থল নামক স্থানে সৎকার করা হয় ইন্দিরার মরদেহ।

ইন্দিরা হত্যার পরের ৪ দিনে সহিংসতায় কয়েক হাজার শিখের প্রাণ যায়। সহিংসতা দিল্লি ও এর আশেপাশের এলাকায় ঘটে। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা তদন্তে গঠিত জাস্টিস ঠক্কর কমিশন ষড়যন্ত্রের জন্য পৃথক তদন্তের পরামর্শ দেয়।

ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারী সৎবন্ত সিংহ ও ষড়যন্ত্রকারী কেহার সিংহকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ভারতের আদালত। ইন্দিরাকে প্রাণনাশের ৫ বছর পর ১৯৮৯ সালে মৃত্যুদণ্ড পালন করা হয়। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার দায়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করে করা হয়। সৎবন্ত সিংহই শেষ ব্যক্তি যাকে দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়।