ইরানে সরকার বিরোধী সহিংসতা; পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ১৫

0
114

সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম জানায়, বিভিন্ন শহরে পাঁচ দিনের বিক্ষোভে অন্তত একজন পুলিশসহ ১৫ জন নিহত হয়েছে।

এসময় আইনশৃংখলা বাহিনী প্রায় ৪০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানী তেহরানে সোমবার সন্ধ্যায় ইংহেল্যাব স্কয়ারের আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে, পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভ কারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশের দাবি, সশস্ত্র প্রতিবাদকারীরা কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলো। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ মাধ্য মেহের সংবাদ এজেন্সির রিপোর্টে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের গুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

দেশজুড়ে এ অস্থিরতার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে ইরানের জনগণকে রাজধানী তেহরানসহ আরও ৫০টি সেন্টারে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান এসেছে। তবে কারা এ বিবৃতি দিয়েছে তা জানা যায়নি।

কিন্তু আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইরাকের অভ্যন্তরীন বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ইরানিদের মনে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তারা চায়, সরকার অন্যদেশের ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে মনযোগী হোক। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্নীতির অভিযোগে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে ইরানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর মাশহাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। যা পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মেহমুদ আহমাদিনেজাদ বিতর্কিতভাবে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর থেকে এবারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকেই জন অসন্তোষের সবচেয়ে গুরুতর ও ব্যাপক প্রকাশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজধানী তেহরানে প্রথম পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।

ওদিকে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বিক্ষোভ নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।