রাকিব হাসান :

পাবনার রুপপুরে তৈরী হচ্ছে দেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মানে সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সট্রাপোর্ট কোম্পানী। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে পর্যাপ্ত ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নে শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প গ্রহনের ৫৭ বছর পর পারমানবিক যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ।
স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল ১৯৬১ সালে। নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দেয় বর্তমান সরকার। ২০১৭ সালে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মানকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের রীতি অনুযায়ী এর মধ্য দিয়ে পারমানবিক জগতে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ৪ শতাংশ সুদহারে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ঋন সহায়তা দিবে রাশিয়া।

বাংলাদেশের ইতিহাসে রের্কড ব্যয়ের এই প্রকল্পে দুইটি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এর প্রথম ধাপের কাজ। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রকল্পটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিুদ্যুৎ যোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সব ধরনের আন্তর্জাতিক রীতি অনুসরন করা হচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একটানা ৬০ বছর নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি মাইল ফলক বলে মনে করছেন নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ ড.শফিকুল ইসলাম।

এদিকে পারমানবিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝেও রয়েছে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
ভক্্রপপ-