উপভোগ্য, তবে সেরা নয় ইনফিনিটি ওয়ার

0
428

উনিশ বার ম্যাট্রিকে সে, ঘায়েল হয়ে থামল শেষে। মার্ভেল’এর উনিশ নম্বর ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। ঘায়েল হল ছয়টা ইনফিনিটি স্টোন এবং ‘দ্য মোস্ট অ্যাওয়েটেড’ মহাভিলেন থ্যানোস-কুমার।

কী টেনশন! কী টেনশন! বাঘা বাঘা সব পৃথিবী-ব্রহ্মাণ্ড-মহাব্রহ্মাণ্ডের তাবড় সব রাখওয়ালেরা একটা মাত্র বড় পরদায়। আঁটবে তো? সন্দেহ ছিলই মার্ভেল ভক্তদের। তার উপর এখানেও দলবাজি! কেউ আয়রনম্যানের ভক্ত, কেউ স্পাইডারম্যানের, কেউ ক্যাপ্টেন আমেরিকা, কেউ থরের।

সুপারহিরোদের ভক্তদের সুপার দলবাজি। তবে সত্যি বলতে কী, থরই কিন্তু বাজি মেরে গেল! ডক্টর স্ট্রেঞ্জও (বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ)। আয়রনম্যান (রবার্ট ডাউনি জুনিয়র) একটু পিছিয়েই থাকল এই মহাযুদ্ধে। বাকি থাকে ক্যাপ্টেন আমেরিকা (ক্রিস ইভান্স)। সে তো বেশ সীমিত পরিসর পেল এই ছবিতে।

গল্পটা মোটের উপর সকলরেই জানা। থ্যানোস চায় সারা ব্রহ্মাণ্ডের উপর রাজত্ব করতে। টিপিক্যাল একনায়ক আর কী! এবার কিছু সাম্যবাদী (ধরা যাক অ্যাভেঞ্জাররা) একজোট হয়ে থ্যানোসের আগ্রাসন রুখে দিতে চায়।

অতঃপর দফায় দফায় একা থ্যানোস (যে চরিত্রের জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন জোশ ব্রোলিন) এবং বাকি অ্যাভেঞ্জারদের বিরাট দঙ্গল! অ্যাভেঞ্জারদের দলে কে নেই! হাল্ক (মার্ক রাফালো), স্পাইডারম্যান (টম হল্যান্ড), ব্ল্যাক উইডো (স্কারলেট জোহানসন) প্রত্যেকেই। বর্ধিত পরিবারের মতো স্টারলর্ড (ক্রিস প্র্যাট) এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গদের সঙ্গে জুড়েছে ওয়াকান্ডার ব্ল্যাক প্যান্থারের লোকজনও। সে এক বিরাট সেনাবাহিনী!

এই ছবিতে কিন্তু ভিলেনই নায়ক বলা চলে। এখনও পর্যন্ত আলট্রন, কিলমংগার, দ্য ভালচার, ডক্টর অক্টোপাস, হেলার মতো সুপারভিলেন আমরা দেখেছি। তবে থ্যানোস সবার সেরা। ছবিতে অনেক চমক রয়েছে, যেগুলো থ্রি-ডি চশমা এঁটে দেখে নেওয়াই ভাল।

আর ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে মার্ভেল’এর ভিস্যুয়াল এফেক্টসের কাজ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। ছবিটা বড় অংশে থর বনাম থ্যানোস হয়ে উঠল এটাই যা। বেশ কিছু চরিত্র তাদের প্রয়োজনীয় বা প্রাপ্য ‘স্পেস’ পায়নি। তবে সবাইকে সমান জায়গা দিতে গেলে ছবিটা সম্ভবত আরও পাঁচগুণ বাড়াতে হতো। তবে ভক্তের মন তো, চাই-চাই করে বলেই কষ্ট হয়!

আবার একটা স্পয়লার অ্যালার্ট দিতে হচ্ছে। ওই ভক্তমনের দোহাই দিয়ে। অনেকগুলো চরিত্র থ্যানোসের দাপটে উধাও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কী হল, তার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এ যাবৎকালে কোনও মার্ভেল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যেটা দেখা যায়নি।

২০১৯’এই তো নাকি জানা যাবে কার কী হল, জানিয়েছেন পরিচালকদ্বয় জো এবং অ্যান্থনি রুশো। তবে থ্যানোস, মানে যে লোকটা এতদিন পোস্ট ক্রেডিট আর অ্যাভেঞ্জারদের আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে, সে পুরো লাইমলাইট কেড়ে নিল কিন্তু।

আর হ্যাঁ, ‘মার্ভেল’ যে গুণে গুণী, সেই মানবীয় আবেগকে অতিমানবদের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়ার ছিটেফোঁটা বিশেষ নেই এ ছবিতে। একা থ্যানোসই কাঁদে শুধু! বাকিরা সকলেই যেন ‘হাল্লা’ এবং ‘যুদ্ধ’ মোডে! পরিচিত হাসি-মজাক অবশ্য ভরপুর।

এবং পর্যাপ্তই। এ রকম একটা প্রজেক্ট ভাবা এক, সেটা বাস্তবায়িত করা আরেক। ছবিটা খানিকটা ‘মার্ভেল’এর প্রথমদিকের ছবিতে অ্যাভেঞ্জারদের একজোট হয়ে লড়াই করার অনুভূতিটা ফিরিয়ে দিল।

তাহলে কি এই ছবিটাই মার্ভেল’এর সেরা? নাহ্! এখনও স্ট্যান্ড অ্যালোন ছবিগুলোকেই এগিয়ে রাখতে হচ্ছে।