ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে দরকার ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছা

0
150

শারমিন আজাদ:

জুলাই থেকে ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। ব্যাংক মালিকরা মনে করছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও আছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঋণের সুদ কমলে বিনিয়োগ বাড়বে, সচল হবে অর্থনীতির চাকা।

ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর। তা বাস্তবায়নে এখন সোচ্চার বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির বৈঠকের পর এনিয়ে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথেও।

বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের আমানত ও ঋণের স্প্রেড ৫ থেকে নামিয়ে ৪ শতাংশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এনআরবি কমর্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ বলেন, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতার কারণে আস্থা হারিয়েছেন গ্রাহকরা।

এরকম সময়ে ঋণের সুদ হার একক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঋন গ্রহীতাদের আস্থা ফিওে আসবে বলে জানান তিনি। তবে এটা বাস্তবায়নে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছাকেই গুরুত্ব দেন তিনি।

তমাল পারভেজ আরো জানান, পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এমডি বা ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কাজ। আর সেটা বাস্তবায়নে কোন সংকট হবে না বলে মনে করছেন তিনি।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি ব্যাংকও অবদান রাখতে আগ্রহী। আর এধরণের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন হলে ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

এ নিয়ে সরকারি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের, জানালেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনেও ঋণের সুদ হার একক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রভাব পড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানালেন , আমদানি ও রপ্তানিকারক উভয়েই এই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করবেন। কমে আসবে ব্যবসায়ের খরচ।

এফবিসিসিআই এর পরিচালক হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, যারা রপ্তানি করেন, তাদের ঋৎপাদন খরচ কমবে। আর যারা আমদানি করেন, তারাও আমদানি মূল্য পরিশোধের পর স্বস্তিতে থাকবেন।

তবে এর ফলে খেলাপী ঋণ কমার আশা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা। কারণ, যারা খেলাপী হয়, তারা প্ল্যান করেই ঋন পরিশোধ করেন না।