একই গান ১০১ ভাবে গাইতে পারতেন মহম্মদ রফি

0
47

ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী। একসময় তিনি সমগ্র উপমহাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সঙ্গীত ভুবনে সুদীর্ঘ চার দশক সময়কাল অতিবাহিত করেন।

সঙ্গীত কলায় অসামান্য অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় পদক এবং ৬-বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মোহাম্মদ রফি। এছাড়াও, ১৯৬৭ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত পদ্মশ্রী সম্মানেও অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।

প্রায় চল্লিশ বছর সময়কাল ধরে সঙ্গীত জগতে থাকাকালীন তিনি ছাব্বিশ হাজারেরও অধিক চলচ্চিত্রের গানে নেপথ্য গায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন মোহাম্মদ রফি। তিনি বহুবিধ গানে অংশ নেয়ার বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তন্মধ্যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বিরহ-বিচ্ছেদ, উচ্চ মার্গের প্রেম-ভালবাসা, কাওয়ালী, ভজন, গজল-সহ বিভিন্ন গোত্রের গানে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সমানভাবে। বিশেষ করে হিন্দি এবং উর্দু ভাষায় সমান দক্ষতা থাকায় তার গানগুলোতে বৈচিত্র্যতা এসেছে সমধিক।

হিন্দিসহ কোনকানি, উর্দু, ভোজপুরী, উড়িয়া, পাঞ্জাবী, বাংলা, মারাঠী, সিন্ধী, কানাড়া, গুজরাতি, তেলেগু, মাঘী, মৈথিলী, অহমীয়া ইত্যাদি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। এছাড়াও আরও গান গেয়েছেন – ইংরেজী, ফার্সী, স্প্যানিশ এবং ডাচ ভাষায়।

২৪ জুলাই, ২০১০ ইং তারিখে টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার চমকপ্রদ কণ্ঠস্বরকে বিশেষভাবে মূল্যায়িত করা হয়েছে। আমি তোমাকে ভালবাসি বা (আই লাভ ইউ) বাক্যটিকে যদি ১০১ প্রকারে গান আকারে গাইতে বলা হয়, মোহাম্মদ রফি ঐ ১০১ প্রকারে তার সবটুকুই করতে পারতেন। প্রায় চার দশকের গানের ভুবনে অসাধারণ অবদানের জন্য মোহাম্মদ রফি তাই সকল সময়ের, সকল কালের ও সকল বিষয়ের শিল্পী হিসেবে পরিগণিত হয়ে আছেন।

সংগীতকে কখনো সময়ের সীমায় বেঁধে রাখা যায় না, একথা খুব সত্যি মনে হয় মোহম্মদ রফির গান শুনলেই । ভজন, গজল, কাওয়ালী থেকে শুরু করে মিষ্টি প্রেমের গান সবধরণের সংগীতেই তার অসাধারণ প্রতিভার বিচ্ছুরণ এখনও গানগুলিকে সজীব করে রেখেছে ।

রফির কয়েকটি জনপ্রিয় গান

১. কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা

নাসির হুসেন নির্মিত ‘ইয়াদোঁ কি বরাত’ সিনেমায় এই গান প্রকাশের পর থেকে (১৯৭৩) এখনও তুমুল জনপ্রিয় ।এই সংগীতের জন্যই শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে মো. রফি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ।

সংগীত সমালোচকদের মতে এই গানটিতে মো.রফির দরদী গায়কী প্রেমের আর্তিকে যেভাবে প্রকাশ করেছে, খুব কম গায়কই এটা করতে সক্ষম ।

২. ইয়ে দুনিয়া, ইয়ে মেহফিল

১৯৭০-এ মুক্তি পাওয়া চেতন আনন্দ-এর ‘হীরা রাঞ্ঝা’ সিনেমার এই গান, মো. রফির অন্যতম সেরা গান হিসেবে বিবেচিত হয় । কাইফি আজমির লেখা এবং মদন মোহনের সুরারোপিত এই গানটিতে রাজকুমারের অভিনয় মনে রাখার মতো ।

৩. ইয়ে চাঁদ সা রোশান চেহরা

শাম্মী কাপুর আর মো. রফি যেন এক অনবদ্য জুড়ি, শাম্মী কাপুরের লিপে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন ‘রফি সাব’ ।

শক্তি সামন্ত নির্মিত ‘কাশ্মীর কি কলি’(১৯৬৪) চলচ্চিত্রের এই গানটি শাম্মী কাপুর এবং মো. রফি জুটির অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গান। কাশ্মীরের ডাল লেকের শিকারাতে গাওয়া এই গানের সুন্দর দৃশ্যে শাম্মী কাপুর আর শর্মিলা ঠাকুরের অভিনয় চলচ্চিত্রটিকে এখনও স্মরণীয় করে রেখেছে ।

৪. তেরি বিন্দিয়া রে

লতা মুঙ্গেশকর আর মো. রফির যুগলকন্ঠের এই রোমান্টিক গান ‘অভিমান’ (১৯৭৩)সিনেমাটিকেই করে তুলেছিল দারুন জনপ্রিয় । হৃষিকেশ মুখার্জী নির্মিত এই সিনেমার জন্যই শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে শচীনদেব বর্মণ পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড । চলচ্চিত্রে অমিতাভ-জয়ার অভিনয় দর্শকমাৎ করেছিল ।

৫. গুলাবি আঁখে যো তেরি

এই গানে মো. রফি তার অসাধারণ সংগীত প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, তিনি যে সব ধরণের গানেই সমান জনপ্রিয়, রাজেশ খান্না অভিনীত ‘দ্য ট্রেন’(১৯৭০) চলচ্চিত্রের এই গানটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।