এবছর মাধ্যমিকে হচ্ছে না বার্ষিক পরীক্ষা; মূল্যায়ন করা হবে ৪টি অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে

0
745

এবছর মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে। প্রতি সপ্তাহে এই অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া ও জমা নেওয়া হবে।

বুধবার বেলা ১২টায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে- তা জানাতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে ৩০ কর্ম দিবসের জন্য একটি পাঠ্যসূচি করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে শিক্ষার্থীদের। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। প্রতি সপ্তাহে এই অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া ও জমা নেওয়া হবে। তবে এতে এটি পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রভাব ফেলবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণয়ন করা সিলেবাস থেকে চারটি অ্যাসাইনমেন্ট এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সিলেবাসটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। এছাড়া এনটিসিটির মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হবে। শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বা খাতায় লিখে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এর বাইরে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাসার কাজ দেওয়া যাবে না। চার সপ্তাহে শুধু চারটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা পৌঁছে দেবে।

১ নভেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার কাজ শুরু হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক সশরীরে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবেন। তবে কেউ চাইলে অনলাইনের মাধ্যমেও শিক্ষকদের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি ই-মেইল ঠিকানা দেয়া থাকবে, সেখানে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট পাঠাতে পারবেন। সকল অ্যাসাইনমেন্টগুলো জমা দেয়ার পর ধারাবাহিকভাবে শিক্ষকরা মূল্যায়ন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘এরপরও যদি কেউ বঞ্চিত থাকে, তার কারণ ও তাদের কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সকলকে নতুন ক্লাসে উন্নীত করা হবে। তাদের মধ্যে কেউ পিছিয়ে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে বাড়তি পরিচর্যা নেয়া হবে।’

সম্প্রতি সরকার করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

তার আগে করোনা পরিস্থিতির কারণে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণির জেএসসি ও জেডিসির পরীক্ষা বাতিল করে সরকার।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।