কম্বোডিয়ার গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

0
60

কম্বোডিয়া সফরের প্রথম দিনে গণহত্যা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে দেশটির স্বাধীনতা স্তম্ভ ও দেশটির জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। তিন দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

নম পেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেল সোফিটেলে ওঠেন তিনি। এই সফরে এই হোটেলেই তিনি থাকবেন।

হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্বাধীনতা স্তম্ভে যান শেখ হাসিনা। ১৯৫৩ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫৮ সালে এ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়।

শেখ হাসিনা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময় তাকে স্ট্যাটেটিক গার্ড অব অনার দেয় কম্বোডিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল।

এরপর কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের রাজকীয় স্মৃতিমূর্তিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তারপর তিনি যান নম পেন শহরের তৌল সেং গণহত্যা জাদুঘর পরিদর্শনে।

আশির দশকে খেমার রুজ নেতা পলপটের শাসনামলে নম পেনের একটি স্কুলকে অস্থায়ী কারাগার বানিয়ে সেখানকার বন্দিদের হত্যা করা হয়; যা ইতিহাসে গণগত্যার স্বীকৃতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী গণহত্যাস্থল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শেষে পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিছু বই জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে দেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। ওই সময়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনকারী বাঙালিদের বিচার এখন চলছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিছু বই জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ছবি: সাইফুল ইসলাম কল্লোল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিছু বই জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ছবি: সাইফুল ইসলাম কল্লোল

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তি ও নয়টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।

রোববার পৌঁছার পর বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান কম্বোডিয়ার মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী ইংকানথা ফাভি, দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট সোফিয়া ইট, কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাঈদা মুনা তাসনিম এবং বাংলাদেশে কম্বোডিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত পিচকুন পানহা।

সফরের প্রথম দিনই কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের দেওয়া এক নৈশভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। কম্বোডিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, বিমান চলাচল ও দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবার।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠন; ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা; শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা; পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা; যুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা; মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রসারে সহযোগিতার মতো বিষয়ে।

এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব কম্বোডিয়ার (আরএসি) মধ্যে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনার কথাও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

দুই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জাতির পিতার নামে ঢাকা ও নম পেনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হবে।

বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ‘পার্ক রোড’ রাস্তাটি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে হবে। একইভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নম পেনের একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করবে কম্বোডিয়া সরকার।

কম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্ট সে চুহুম ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হেং সেমারিনের সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। সফর শেষে মঙ্গলবার বিকালে শেখ হাসিনার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।