করোনামুক্ত দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি

0
257

করোনায় আক্রান্ত শেষ রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পর দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র ফিজি নিজেদের করোনা মুক্ত ঘোষণা করল। 

দেশটির পক্ষ থেকে শুক্রবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত ফিজি দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা মাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় সেখানে। এ ঘোষণা আসার পর দেশটির মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ করোনার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। যে কারণে দেশটিতে মাত্র ১৮ জন মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা শুক্রবার টুইট করে ঘোষণা দেন, ফিজির সবশেষ কোভিড–১৯ রোগীকে সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিজির সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা, কঠোর পরিশ্রম ও বিজ্ঞানের ওপর গুরুত্বােরাপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁরা দিন দিন করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছেন। গত ৪৫ দিন ধরে দেশে কোনো নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। ফিজিতে কেউ মারা যায়নি। আক্রান্ত রোগীদের সেরে ওঠার হার ১০০ শতাংশ।

ডায়াবেটিস, হৃদরোগের প্রচুর রোগী এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর কারণে দেশটিতে এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রকোপের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এছাড়া ভৌগোলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে আইসোলেশন সমস্যায় সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হওয়ারও শঙ্কা ছিল। যদিও সব শঙ্কা উড়িয়ে শুক্রবার দেশটিকে করোনামুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা।

ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশও করোনা আতঙ্কের কারণে একেবারে শুরুর দিকেই তাদের সীমান্ত অতি দ্রুত বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, পর্যটক নিষিদ্ধের মতো ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় এসব দেশ।

এমন সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র পালাও, টোঙ্গা, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, কুক আইল্যান্ড এবং মাইক্রোনেশিয়াতে এখন পর্যন্ত একজন করোনা রোগীও পাওয়া যায়নি।