করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩,০৯৯ জন আক্রান্ত ও মৃত্যু ৩৯ জনের

0
315

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯৯ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৩৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৭০৩ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ৩৯১ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩১৭ জন।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সোমবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ৯ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ জন, রংপুর বিভাগে ও সিলেট বিভাগে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন।

এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৮৯০ জন এবং নারী ৫০১ জন। পুরুষ ৭৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নারী ২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ নারী।

বিভাগ অনুযায়ী এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ১৯৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৬২৩ জন, রাজশাহী বিভাগের ১২১ জন, খুলনা বিভাগের ১২৮ জন, বরিশাল বিভাগের ৮৮ জন, সিলেট বিভাগের ১০৫ জন, রংপুর বিভাগের ৭৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৫৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন।

বয়স বিবেচনায় এ পর্যন্ত ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৮ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৬৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭১৪ জন এবং ষাটোর্ধ এক হাজার ৪২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৭৭টি ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৪২৩টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৭টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৬৫ জনকে। এ প‌র্যন্ত আই‌সো‌লেশনে নেয়া হলো ৩৭ হাজার ২৭০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭১৩ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৯ হাজার ৮৯৯ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭ হাজার ৩৭১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৪০১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ২৭৩ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬২ হাজার ২১১ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।