কর্মচঞ্চল মানুষকে নতুন এক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে ইরানের আলিসাদ্র গুহা

0
142

মার্জিয়া মান্নান: ইরানের পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন এক শহর হচ্ছে হামেদান। এখানে রয়েছে বিস্ময়কর একটি গুহা, যার নাম আলিসাদ্র গুহা। হামেদান শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে এই গুহাটির অবস্থান।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পানিগুহা হিসেবে খ্যাত ইরানের হামেদান প্রদেশে আলিসাদ্র গুহা প্রকৃতির এই গুহার পাহাড় ও আংশিক সমতল ভূমির নীচ দিয়ে বয়ে গেছে ২৪ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ জলাধার।

প্রাচীনকালে গুহা মুখে মানুষ বাস করলেও বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগে মানুষ জানতেই পারেনি এটি এতো দীর্ঘ, বিচিত্র এই গুহার সবখানেই ছড়িয়ে রয়েছে শুধু বিস্ময় যা মানুষকে এই কর্মচঞ্চল পৃথিবী থেকে নতুন এক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে।

গুহাটির ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরে অসংখ্য হৃদ বা নালা পরস্পর সংযুক্ত হয়ে আছে। এই হ্রদগুলো আবার আঁকাবাঁকা। যেকারণে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পানিগুহা হিসেবে খ্যাত এটি। সৃষ্টির পর থেকেই এই গুহার পানি কখনো সূর্যের মুখ দেখেনি। অসম্ভব স্বচ্ছ এই পানির কোনো রং নেই, গন্ধও নেই।

আলিসাদ্র গুহার দেওয়ালের গায়ে রয়েছে খাঁটি ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের আবরণ। গুহার ছাদে লোহার দন্ডের মতো অসংখ্য দন্ড পাশাপাশি ঝুঁলে আছে। এর ভেতরের দৃশ্য অসম্ভব সুন্দর। বিশেষ করে রং বেরং এর লাইটিং এর ব্যবস্থা গুহার পরিবেশকে করে তুলেছে আরো মোহনীয়।

প্রায় সাত কোটি বছরের প্রাচীন এই গুহাটি ১৯৬৩ সালে প্রথমবারের মতো আবিষ্কৃত হয়। এ পর্যন্ত এই জলগুহাটির চব্বিশ কিলোমিটার পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। বাকি অংশ অনুসন্ধানের কাজ চলছে।

সম্প্রতি আলিসাদ্র গুহার ভেতরে খনন কাজ চালিয়ে বেশকিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীর বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই গুহা। তবে পর্যটকদের জন্য মাত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।