কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট মিলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে; চালু হচ্ছে আরো ৮৪টি ট্রেন

0
443

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশের  কাউন্টারে পাওয়া যাবে ট্রেনের টিকিট। করোনা পরিস্থিতির  কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে প্রতিটি ট্রেনে মোট আসনসংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এই ৫০ শতাংশ টিকিটের অর্ধেক অর্থাৎ মোট আসনসংখ্যার ২৫ শতাংশ আসনের টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হবে। আর বাকি অর্ধেক ২৫ শতাংশ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও মোবাইলে ইস্যু করা যাবে।

সোমবার বাংলাদেশ রেলওয়ে উপপরিচালক (টিসি) মো. নাহিদ হাসান খাঁন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিকিট ইস্যুর উল্লেখিত সংশোধনীগুলো আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে টিকিট ইস্যু করার অন্যান্য নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। সকাল ৮টা থেকে কাউন্টারে মাধ্যমে এবং বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে অ্যাপ, অনলাইন ও মোবাইলের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে।

এদিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন পর্যায়ে চালু হচ্ছে আরো ৮৪টি কমিউটার, মেইল, এক্সপ্রেস এবং লোকাল ট্রেন। এ নিয়ে ২১৮টি ট্রেন চালু হবে। বাকি আরও ১৪৪টি মেইল ও লোকাল ট্রেন পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর চালু হচ্ছে কর্ণফুলী কমিউটার; তিতাস কমিউটার; তুরাগ এক্সপ্রেস-১, ২, ৩, ৪; কালিয়াকৈর কমিউটার-১ ও ২ এবং লোকাল (নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ)।

দ্বিতীয় দফায় ১৩ সেপ্টেম্বর চালু হবে জালালাবাদ এক্সপ্রেস; সুরমা মেইল; ঢাকা/নোয়াখালী এক্সপ্রেস; ময়মসিংহ এক্সপ্রেস; ভাওয়াল এক্সপ্রেস; ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস; চাঁদপুর কমিউটার, নোয়াখালী কমিউটার এবং তৃতীয় দফায় ১৬ সেপ্টেম্বর চালু হবে নাজিরহাট কমিউটার-১, ২, ৫, ৬; লোকাল (চট্টগ্রাম-দোহাজারী-চট্টগ্রাম); লোকাল (মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ); লোকাল (ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল-ময়মনসিংহ-ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল); উত্তরবঙ্গ মেইল; কাঞ্চন কমিউটার; দিনাজপুর কমিউটার; বুড়িমারী কমিউটার-১ ও ২; কুড়িগ্রাম শাটল; রাজবাড়ী এক্সপ্রেস-১, ২, ৩, ৪; ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস-১ ও ২।

তৃতীয় ধাপে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে যেসব ট্রেন চলবে সেগুলো হলো, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-চট্টগ্রাম রুটে নাজিরহাট কমিউটার, চট্টগ্রাম-দোহাজারী-চট্টগ্রাম রুটে লোকাল ট্রেন, মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে লোকাল ট্রেন, ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল- ময়মনসিংহ-ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল রুটে লোকাল ট্রেন, সান্তাহার-বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন-সান্তাহার রুটে উত্তরবঙ্গ মেইল, পার্বতীপুর-বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশন পার্বতীপুর রুটে কাঞ্চন কমিউটার, লালমনিরহাট-বিরল-লালমনিরহাট রুটে দিনাজপুর কমিউটার, লালমনিরহাট-বুড়িমারী-লালমনিরহাট রুটে বুড়িমারী কমিউটার, কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম রুটি কুড়িগ্রাম মেইল, রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে রাজবাড়ী এক্সপ্রেস, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া-রাজবাড়ী রুটে ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোচের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রয় করতে হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন পরিচালনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে প্রথম দফায় আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়। ৩ জুন দ্বিতীয় দফায় আরও ১১ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন বাড়ানো হয়। তবে কিছুদিন পর যাত্রী সংকটে দুই জোড়া ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর তৃতীয় দফায় ১৬ আগস্ট চালু হয় আরও ১৩ জোড়া ট্রেন। ২৭ আগস্ট থেকে চতুর্থ দফায় ১৯ জোড়া ট্রেন চালু হয়েছে এবং সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর আরও ১৯ জোড়া ট্রেন যুক্ত হয়েছে ট্রেনের বহরে। বর্তমানে সব মিলিয়ে মোট ৬৭ জোড়া, অর্থাৎ ১৩৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে বিভিন্ন রুটে।