কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শেষ চার নিশ্চিত

0
56

শনিবার থেকে আবারও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্ব। ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এই ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে জয় পেলে তৃতীয় দল হিসেবে শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করত মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। কিন্তু রংপুরকে চার উইকেট হারিয়ে তাদের শেষ চারে ওঠার পথ কঠিন করে দিয়েছে তামিম ইকবালের কুমিল্লা।

এদিন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে অফস্পিনার মেহেদী হাসান ও ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর রাইডার্স।

জবাবে তিন বল ও চার উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৯৮ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না কুমিল্লা। জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হারায় ছয় উইকেট। কিন্তু লক্ষ্য ছোট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

স্কোরকার্ডে ২২ রান যোগ করতেই তিন রান করা লিটন দাসকে সাজঘরে পাঠান মাশরাফি। তবে হাত খুলে খেলছিলেন তামিম ইকবাল। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে নাহিদুল ইসলামের ক্যাচে পরিণত করে তাকে সাজঘরে পাঠান সোহাগ গাজী। আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ২২ রান। ইংলিশ তারকা জস বাটলারকে মাত্র পাঁচ রানে ফেরান নাজমুল ইসলাম।

চতুর্থ উইকেটে ২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন ইমরুল কায়সে ও শোয়েব মালিক। ইমরুলকে ১৪ রানে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করে জুটি ভাঙেন মাশরাফি। দুই রানের ব্যবধানেই অপুর দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ২০ রান করা শোয়েব মালিক। ইমরুল-শোয়েব মালিক ফিরে গেলে চাপে পড়ে কুমিল্লা। লো স্কোরিং ম্যাচেও দেখা দেয় রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। ১৯তম ওভারে মাশরাফির বলে ছয় হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

সাত বলে তখন কুমিল্লার দরকার আট রান। ১৯তম ওভারের শেষ বলেই ছয় হাঁকিয়ে কুমিল্লার সংশয় দূর করেন হাসান আলী। এরপর শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মারলন স্যামুয়েলস। ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবিয় এই তারকা ক্রিকেটার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্কোরকার্ডে আট রান যোগ করতেই ফিরে যান রংপুরের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও জিয়াউর রহমান। মোহাম্মদ মিথুনকে সঙ্গে নিয়ে শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিন্তু মিথুনকে ১৭ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মিথুনের বিদায়ের পর রবি বোপারাও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। মাত্র চার রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রানের চাকা সচল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ম্যাককালাম। কিন্তু ২৪ রানে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে থামান কুমিল্লার তরুণ স্পিনার মেহেদী হাসান। এটাই রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ম্যাককালামের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পরে রংপুরের ইনিংস।

মিথুন, ম্যাককালাম এবং সোহাগ গাজী ছাড়া বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ পারেননি। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে স্কোরকার্ডে মাত্র ৩৮ রান যোগ করতেই বাকি পাঁচ উইকেট হারায় দলটি।

কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তরুণ স্পিনার মেহেদী হাসান। চার ওভারে ২২ রান খরচ করে চার উইকেট দখল করেন এই অফ স্পিনার। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন তিন উইকেট। একটি করে উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন ও হাসান আলী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর রাইডার্স: ১৭.১ ওভারে ৯৭ (জিয়াউর ৬, গেইল ০, ম্যাককালাম ২৪, মিঠুন ১৭, বোপারা ৪, কাপুগেদেরা ২, নাহিদুল ৬, মাশরাফি ৯, উদানা ৯, সোহাগ ১২, অপু ১*; মুজিব ০/১৭, মেহেদি ৪/২২, হাসান ১/১৫, সাইফ উদ্দিন ৩/২২, আল আমিন ১/১৮)।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৯.৩ ওভারে ১০০/৬ (তামিম ২২, লিটন ৩, ইমরুল ১৪, বাটলার ৫, মালিক ২০, স্যামুয়েলস ১৬*, সাইফ ৬, হাসান ৬*; সোহাগ ১/১৫, মাশরাফি ৩/২৪, উদানা ০/১৮, বোপারা ০/১১, অপু ২/১৭, নাহিদুল ০/৭)।

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদি হাসান