কৃত্তিম বুদ্ধি দিয়ে চিহ্নিত হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী

0
55

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনচেনে ট্রাফিক আইন লংঘন করলে রাস্তার মোড়ে বড় পর্দায় চেহারা দেখানোর পাশাপাশি জরিমানা করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চেহারা শনাক্তকারী প্রযুক্তি (ফেসিয়াল রিকগনিশন) ব্যবহার করে আইন লংঘনকারীকে শনাক্ত করে জনসমক্ষে তা প্রকাশ করা হচ্ছে বছরখানেক ধরে।

এখন ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে তার অপরাধ সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি জরিমানা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সাউথ চায়না মনিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন লংঘনকারীকে শনাক্ত এবং রাস্তার মোড়ে বসানো বড় এলইডি পর্দায় তা দেখানোর এই সিস্টেম শেনচেন ‍পুলিশকে তৈরি করে দিয়েছে ইন্টেলিফিউশন নামের একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান। এখন তারা এসএমএস পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় মোবাইল কোম্পানি, উইচ্যাট ও সিনা ওয়েইবোর মত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে একটি নতুন সিস্টেম তৈরি করতে চাইছে।

এ বিষয়ে ইন্টেলিফিউশনের বিপণন পরিচালক ওয়াং জুন বলেন, এটা করা গেলে কেউ ট্রাফিক আইন ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনে একটি এসএমএস পাবেন।

“চীনে পথচারীদের ট্রাফিক আইন লংঘনের প্রবণতা রয়েছে। জরিমানা করে ও চেহারা প্রকাশ করে এর সমাধান হবে না। প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই প্রবণতা কমিয়ে আনা যাবে।”

চীনের প্রথম সারির শহর বেইজিং ও সাংহাইয়েও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লংঘনকারীকে শনাক্ত করা হয়ে থাকে।

এদিকে বিশ্বের প্রথম ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির আধুনিক ক্যামেরা দিয়ে একাধিক দিক থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করছে বেইজিং পুলিশ। দেশটির হেনান প্রদেশের চেংচৌ শহরের রেল স্টেশন পুলিশও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমার ব্যবহার শুরু করেছে।
শেনচেনের বর্তমান ব্যবস্থায় পথচারীদের ছবি তুলতে ৭০ লাখ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা বসানো রয়েছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ছবির সঙ্গে ডেটাবেইসের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া হয়। এরপর এই সব তথ্য যেমন ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীর ছবি, নাম ও নাগরিক পরিচিতি নম্বর একটি বড় এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়।

এই প্রযুক্তিতে গত দশ মাসে ট্রাফিক আইন লংঘনে ১৩ হাজার ৯৩০ জনকে শনাক্ত করে তাদের ছবি ফোশান শহরের ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে বড় পর্দায় দেখানো হয়েছে।

এদিকে গত মার্চে শেনচেন ট্রাফিক পুলিশ একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করে, যাতে ট্রাফিক আইন লংঘনকারীদের ছবি, নাম ও নাগরিক পরিচিতি নম্বরের অংশ বিশেষ প্রকাশ করছে তারা।

এ বিষয়ে ইন্টেলিফিউশনের কর্মকর্তা ওয়াং বলেন, এই পদ্ধতি আইন লংঘনের পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আনতে কাজে দেবে বলে মনে করছেন তারা।

“একজন নাগরিক কতবার ট্রাফিক আইন অমান্য করছেন সেই তথ্য এই প্রযুক্তিতে সংরক্ষণ করা যাবে। সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে ওই ব্যক্তির সোশাল ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে তার ব্যাংক ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা সীমিত হতে পারে।”

ট্রাফিকের এই কড়াকড়িকে সমর্থন জানিয়ে সাংহাই একাডেমির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান লি ওয়াই বলেন, “চীনে নাগরিকদের অধিকাংশই ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীন। আইন লংঘনকারী ব্যক্তির ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে প্রদর্শন করা হলে পরিস্থিতি পরিবর্তনে তা কার্যকর হবে।”

তবে আইন প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ভারসাম্য আনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন লি।

এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার শহর শেনচেন। চীনে যেসব শহর দিয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের যাতায়াত, সেগুলোর একটিও এই মহানগর। সেখানে ৩০ দিনের বেশি অবস্থান করলে ব্যক্তির তথ্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারে যোগ হওয়ার কথা থাকলে অনেকের ক্ষেত্রে তা হয় না।

এই পরিস্থিতিতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারে ট্রাফিক পুলিশ আইন লংঘনকারীদের মাত্র ১০ শতাংশকে শনাক্ত করতে পারছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

আগামীতে চীন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের তথ্যভাণ্ডারগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা গেলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ইন্টেলিফিউশনের কর্মকর্তা ওয়াং।