কেমন কাটে পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ? (ভিডিও)

0
179

মাহবুব সৈকত : উৎসব চারিদিকে, ঈদের আমেজ ঘরে ঘরে। স্বজনের স্বানিধ্যে দুর দুরান্ত থেকে যাওয়া মানুষ। হয়তো ফিরে আসারও প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু যে পরিবহন চালক কিংবা শ্রমিকের কারনে নিরাপদ হবে এই আসা এবং যাওয়া, উৎসব হয়েছে পরিপূর্ন, তাদের ঈদ কিভাবে কেটেছে তা কি কেউ খবর রাখে?

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের হাসেম মিয়া। চার যুগের ও বেশি সময় ধরে নৌ পরিবহনের চালক। দীর্ঘ এই সময়ে দেশের সার্বজনীন প্রধান দুই উৎসবে স্বজনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া লাখো যাত্রীকে পৌছে দিয়েছেন নিরাপদ ভাবে।

তবে অন্য অনেক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মত গত ৫০ বছরে নিজের পরিজনদের দিতে পারেন নি সানিধ্য ।
যৌবনে স্ত্রী, সন্তান আর এখন উৎসবে বাড়ি আসার তাড়া দেয় নাতীরা। কিন্তু সব পিছু টান উপেক্ষা করতে হয় বৃহৎ স্বার্থে, যাত্রীদের পৌছে দেয়ার আনন্দই মানসিক তৃপ্তি।

হাসেম মিয়াদের মত সড়ক পরিবহনের সাথে সংশ্লিদের ঈদ পালনের গল্প ও একই রকম।  নিজের আনন্দকে উৎসর্গ করে অন্যের আনন্দ যাত্রার চাবিকাঠি যাদের হাতে ঈদের দিনেও অবসর কিম্বা বিনোদিত হওয়ার সুযোগ থাকেনা তাদের। দুর যাত্রার জন্য রাতের ঘুম পুষিয়ে নিতে গাড়ির সিটগুলো ই তাদের ভরসা।

কিন্তুু নিজেদের ঈদ উৎসর্গ করে যাদের জন্য সেই যাত্রীদের আচরন অনেক সময় ই মনোবেদনার কারন হয়ে দাঁড়ায় স্বজন ছেড়ে যাত্রীদেরকেই স্বজন ভেবে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া পরিবহন সংশ্লিদের।

যদিও কিছু কিছু যাত্রীর ইতিবাচক আচরন উৎসাহিত করে তাদের। মাত্র কয়েক ঘন্টার যাতায়াতে চালক, শ্রমিক আর যাত্রীদের সম্পর্ক হয়ে ওঠে পরিবারের সদস্যদের মতই। তবে বিপরিত চিত্র ও রয়েছে, যাত্রীদের সাথে কিছু অসহিন্সু কর্মীর আচরনে সুনাম নষ্ট হয় গোটা পরিবহন খাতের।

রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বৃহস্পতিবার এক যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে প্রহার করে শ্রমিকরা। সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রহারের স্বীকার হন প্রবীন বাবা-মা।

এমন কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া নিদেজের সুখ বির্জন দিয়ে অন্যের সুখের পূর্নতায় ভুমিকা রাখা পরিবহন কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ যাত্রীরাও। তবে নিরাপদে গন্তব্যে পৌছে দেয়ার পড়ও ধন্যবাদ পাওয়ার বিপরিতে নেতিবাচক কথার মাধমে আহত করা যাত্রীদের সংখ্যাও কম নয়।

সবার প্রত্যাশা দিনে দিনে আরো সু সম্পর্ক গড়ে উঠবে যাত্রী আর পরিবহন সংশ্লিদের মধ্যে। উৎসব হবে সবার তরে।