কোন আশঙ্কা রেখে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না: গয়েশ্বর

0
71

কোনো আশঙ্কা রেখে বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেছেন গয়েশ্বর । সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচন বয়কট করবে। কারণ তারা জানে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয় লাভ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু ও প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টুর মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম।

এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি একটি আগাম কথা বলে রাখি, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন ন্যূনতম সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করবে। কারণ তারা জানে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয় লাভ করতে পারবে না। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসবে না।’

বিএনপি নির্বাচনে যাবে তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়। বিএনপি এখনও শেখ হাসিনার জন্য গলার কাঁটা। ২০১৪ সালে যে কারণে আমরা নির্বাচনে যাই নি, একই কারণে আগামী নির্বাচনেও যেতে পারি না। সুতরাং সেই কারণগুলোকে মোকাবিলা করে, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সৃষ্টি করে, তারপর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। এজন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি বলে দাবি করেন তিনি।

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে বলা আছে, আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আমাদের এত কথা বলার দরকার নাই। এ বিষয়ে হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছে। এখন শুধু তা কার্যকর করার জন্য আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। এজন্য যদি আইনি লড়াই করার প্রয়োজন হয়, তাই করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যখন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাবে, তখন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিবে।’

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সমঝোতার জন্য সরকার জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে দাবি করেছেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতাদের সাথে তারা (আওয়ামী লীগ) বৈঠক করেছে। কিন্তু তাদের (জামায়াত নেতাদের) বাগে আনতে পারছে না।’

আয়োজক সংগঠন ‘সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম’-এর আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।