ক্যান্সারের ওষুধ আবিষ্কারে অগ্রসর হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

0
102

ক্যান্সার হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলাফল। পৃথিবীতে দুইশ প্রকারের বেশি ক্যান্সার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্যান্সারের কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা।

এ কারণে এ রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য নিত্যনতুন গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। মানব দেহের কোষের যে অংশে ক্যান্সারের আক্রমণ হয় সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ক্যান্সার চিকিৎসায় চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সেই চিন্তা থেকে ডিএনএর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আশার বাণী শোনাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। আর এক্ষেত্রে মূল সূত্রটি এসেছে বায়োকেমেস্ট্রির এক যুগান্তকারী অবদান বায়োমলিকিউল-গুলির সরলতর ও উন্নততর ‘ইমেজিং’। বায়োমলিকিউলের উন্নত চিত্রের সাহায্য নিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত অংশকে সুস্থ করার জন্য ওষুধ আবিষ্কারের আশাবাদ ব্যক্ত করা এই গবেষকের নাম ড. এলেকজেন্ডার ভান্নিনি।

তিনি বলেন, ডিএনএর যে অংশে ক্যান্সার আক্রমণের শিকার হয় শুধু সেটিকে ওষুধ দিয়ে ঠিক করতে পারলেই মুক্তি মিলতে পারে ক্যান্সার থেকে।

ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড বা ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত ধারক। সকল জীবের ডিএনএ জিনোম থাকে। আর এই ডিএনএর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে আরএনএ বা রাইবো নিউক্লিক এসিড।

আরএনএ পলিমার থ্রি নামের এই পলিমারকে ক্যান্সার আক্রান্ত করলে ঠিকমতো কাজ করতে পারে না ডিএনএ। ডিএনএতে সংরক্ষিত জেনেটিক নির্দেশগুলো পড়তে পারে না আরএনএ পলিমার থ্রি। এই সমস্যা দূর করতে তাই বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ তৈরি করতে চান।

কিন্তু যদি প্রয়োগ করা ওষুধ পুরো ডিএনএর ওপর প্রয়োগ করা হয় তাহলে ক্যান্সার নির্মূলের সম্ভাবনা কমে যায়। এমনকি ঐ ডিএনএর সম্পূর্ণ কার্যক্রমই তখন জটিলতার মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ অংশের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করা হলে তা শুধু সমস্যাটিকেই নির্মূল করবে, ডিএনএর কার্যক্রমে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্সের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক পল ওয়ার্কম্যান বলেন, এটা সত্যিই চমত্কার একটি গবেষণা। কোষের অভ্যন্তরের মূল সমস্যাকে চিহ্নিত করে ক্যান্সার চিকিত্সায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। কোষভিত্তিক জীব বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ক্যান্সার চিকিত্সায় ভবিষ্যতে যুগান্তকরী ভূমিকা রাখবে।

ক্রাইয়ো-ইলেকট্রন মাইক্রো-স্কোপির বিকাশের কল্যাণে বায়োমলিকিউল-গুলির সরলতর ও উন্নততর চিত্র (ইমেজিং) তৈরি করতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। যুগান্তকারী এই গবেষণার জন্য ২০১৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন সুইজারল্যান্ডের জাক দুবোচে, জার্মান বংশোদ্ভূত ইওয়াখিম ফ্রাংক ও স্কটিশ বংশোদ্ভূত রিচার্ড হেন্ডারসন।