কিছু গণমাধ্যম খন্ডিত ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

0
91

কিছু গণমাধ্যম খন্ডিত ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, কিছু গণমাধ্যম খন্ডিত ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে তার বক্তব্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম। বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রনালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন বর্তমান সরকারের নানামুখি ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাখাতের দুর্নীতি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে কম। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্সে রয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, তার যে বক্তব্যের জন্য সমালোচনা হচ্ছে, তা তিনি বলেছিলেন অতীতের উদাহরণ দিতে গিয়ে; এখনকার পরিস্থিতি ততোটা খারাপ নয়। ওই বক্তব্য ‘খণ্ডিত আকারে’ প্রচার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিও’ এখন প্রশ্ন তুলছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সপ্তাহের শুরুতে এক অনুষ্ঠানে ঘুষ নিয়ে ওই বক্তব্যের পর নানামুখী আলোচনার প্রেক্ষাপটে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ার খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলছেন। তাদের উদ্দেশে সবিনয়ে বলতে চাই- সুদীর্ঘকাল ধরে আপনারা আমার সততার সংগ্রাম, নীতি-আদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ বিষয়ে অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিত-ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।”

রোববার শিক্ষা ভবনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, যাতে কর্মকর্তাদের ‘সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওতে নাহিদকে বলতে শোনা যায়, “সব জায়গায় যে বলেছি অপচয়-দুর্নীতি আমরা কঠোর অবস্থান নেব এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। এটা আমাদের বলতে হবে… কিন্তু আমি ইডির (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) সভায় বলছি, আপনারা দয়া করে ভালো কাজ করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।”

ওইদিন নাহিদ বলেন, “নানা জায়গায় এ রকম হইছে, সব জায়গাতেই এ রকম হইছে। খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। … এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।”

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ব্যাখ্যায় বলা, আট বছর আগের অবস্থা কেমন ছিল বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী সভায় ওই কথা বলেন। এরপর বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কিছু সংবাদ মাধ্যম অতীত বিষয়ক বক্তব্য ও তুলনাকে বর্তমানের কথা ধরে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার মধ্যে ভাবমূর্তির দিক থেকে সব চেয়ে পিছিয়ে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ছিল দৃশ্যমান। কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে ছিলেন ‘আকণ্ঠ নিমজ্জিত’।

“এসবই ছিল পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের ফসল। সেই সময় ডিআইএ কর্মকর্তারা স্কুল-কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘুষের খাম গ্রহণ করার সময় বলত এর ভাগ উপরেও দিতে হয়। তাতে শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করতে বাধ্য হত- তাদের প্রদত্ত ঘুষ শুধু পরিদর্শনকারী অফিসাররাই খায় না, ঊর্ধ্বতন আমলারাও পায়, এমনকি মন্ত্রী হিসেবে আমিও পাই। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করত- ‘অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর’।”

নাহিদ বলেন, “সে সময় তাদেরকে ঘুষ-দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার পরিবেশ তো ছিলই না, অনেক শিক্ষক এসে আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলতেন, ‘আমরা নিম্ন বেতনের চাকরি করি, এত টাকা আমরা কোথা থেকে দেব? এক মাসের সম্পূর্ণ বেতনের টাকা ঘুষ দিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা খাব কী? ঘুষের মাত্রা আরেকটু সহনীয় হলেও বাঁচতাম’।

“২৪ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে অতীতের ওইসব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়েই আমি উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম- ‘ঘুষের সহনীয় মাত্রা’ এবং ‘অফিসাররা চোর’, ‘মন্ত্রী চোর’।”

কিন্তু কিছু পত্রিকা ও অনলাইনে ওই বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নাহিদ বলেন, “ওই বক্তৃতায় বা কোনোখানেই আমি বিএনপি-জামায়াতের এই প্রসঙ্গটা বলি নাই। কিন্তু যাদের (বিএনপি-জামায়াত) এই কথাটা প্রচার হয়েছে তারাও এখন মাঠে নেমে পড়েছেন আমাকে অভিযুক্ত করবার জন্য।

“আসলে তাদের (বিএনপি-জমায়াত) সময়েই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। … বরং তাদের উচিত তাদের সময়ের ব্যাখ্যা দেওয়া, তাদের কুশাসনের ফল হল এটা।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করেন, প্রাথমিকের শিক্ষকদেরও স্যার বলেন। মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে নমনীয় হলেও নীতি, আদর্শ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি ‘দৃঢ় এবং কঠোর’।

“… আমার কোনো কিছুরতো ভয় নেই, কোনো কিছু হারানোর কোনো ভয় নেই। যার জন্য আমি কখনও কারোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে আমি পিছপা হই না।”

নাহিদ বলেন, “আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আমি অবিচল। সততা, স্বচ্ছতা আর দেশপ্রেমের ভিত্তিতেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশ ও জাতির সেবায় সারা জীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এটিই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা।”

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাখ্যা দিলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি শিক্ষামন্ত্রী।

“আমি অন্য সময় সব সময় কথা বলি, আমি আজকে আর কোনো কথা এখানে বলব না। আজকে আর প্রশ্ন নেব না।”

এরপরেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে নাহিদ বলেন, “আমি (বক্তব্যের) লিখিতটা আপনাদের দিয়েছি। অনুরোধ জানাচ্ছি আজকে এর চেয়ে বাইরে আর যাব না। আমি আশা করব আপনারা বিষয়টি বুঝবেন।”