খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন তার আইনজীবী

0
91

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন তার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান।

বুধবার, ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে বসে গত ২০ ডিসেম্বর যুক্তিতর্কের শুনানি শুরুর পর পাঁচ কার্যদিবসের চারদিনই খালেদার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এই আইনজীবী।

বুধবার যুক্তিতর্ক শুনানির পঞ্চম দিনে দুপুর পেরিয়ে আইনজীবী রেজাক খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। পরে বিএনপি নেত্রীর পক্ষে নতুন করে যুক্তি তুলে ধরা শুরু করেন তার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন রেজাক খান। মাঝে ১৫ মিনিটের বিরতি দিয়ে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার যুক্তি-তর্ক শেষ বলে আদালতকে জানিয়ে মামলা থেকে বিএনপি নেত্রীকে খালাস দেওয়ার দাবি জানান রেজাক খান।

চারদিন নিজের যুক্তি তুলে ধরে শেষে এসে তিনি আদালতকে বলেন, “এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাকে খালাস দেওয়ার দাবি জানাই।“

এদিকে বিএনপি নেত্রীর পক্ষে তার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রথম বারের মতো যুক্তি-তর্ক শুরু করলেও দিনের শুনানি শেষ হওয়ার আগে মাত্র ১৫ মিনিট সময় পান তিনি।

বিচারক বৃহস্পতিবারও তার যুক্তি উপস্থাপনের সময় রেখেছেন।

১৫ মিনিটের বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব বলেন, “আমরা যাই বলি না কেন, এই মামলার স্বাক্ষী প্রমাণে যাই থাকুক না কেন, বলতে হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা; এবং এই মামলার উদ্দেশ্য হল যে কোনোভাবেই বলতে হবে- এটাই চোর, আমাদেরকে চোর বলতে হবে।”

আদালতের দিনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, কোনো বিষয়েই খালেদা জিয়ার বিপক্ষে বলা হয়নি। তিনি যে জড়িত ছিলেন না, সেটাই বরং প্রমাণিত হয়।

“সংবিধান অনুযায়ী ওই লেনদেনের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা প্রাইভৈট ট্রাস্ট। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য, বেগম জিয়ার চরিত্র হননের জন্য, তাকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য দূরভিসন্ধিমূলকভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়।“

এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে আসা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে মোট সাত দিন বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

গত ৫ ডিসেম্বর তার বক্তব্য শেষ হলে বিচারক যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ঠিক করেন। যুক্তিতর্ক শুনানির শুরুর দিন ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

পরের কার্যদিবস থেকে আসামিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা শুরু হয়। মামলার প্রধান আসামি খালেদার পক্ষে আইনজীবী রেজাক খান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন ছাড়াও তার আরও দুই আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

পঞ্চম দিনে মামলার প্রধান আসামির এক আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর দুদকের আইনজীবী কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “তারা বলছে খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। আমরা বলছি প্রধানমন্ত্রীর যে দায়িত্ব, সাংবিধানিকভাবে অর্থ-সম্পদ সব কিছুর ব্যাপারে দায়-দায়িত্ব তার। অর্থ যেটা এসেছিল- তা দুইভাগে ভাগ করে এক ভাগ তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে, আরেকভাগ তারেক রহমানকে দিয়েছিলেন।“

“তারা বলছে (খালেদা জিয়ার পক্ষ) মোস্তাফিজুর রহমান বা তার সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হয়নি। এসবের জবাব আমরা দেব। মোস্তাফিজুরর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা না করা প্রসিকিউশনের ব্যাপার।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

খালেদা জিয়া এ মামলায় জামিনে আছেন। তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ রয়েছেন কারাগারে।