খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না: মির্জা ফখরুল

0
57

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। খালেদা জিয়ার কারামুক্তির আগে নির্বাচনসহ অন্য কোনো বিষয় নিয়ে বিএনপি ভাবছে না বলে জানান  দলটির মহাসচিব।

নেত্রীর মুক্তিই দলের প্রধান ও একমাত্র শর্ত বলে জানান মির্জা ফখরুল। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘স্বাধীনতা হলে’ এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র দাবি, একমাত্র শর্ত। আগে তাকে মুক্ত করতে হবে। তারপর অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে কিছু নয়।

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে দলটি।

জাগপার প্রয়াত নেতা শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। তার দেশপ্রেম, গণতন্ত্রের জন্য ভালোবাসা, স্পষ্ট কথা বলা আজকাল খুব একটা দেখা যায় না।

দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না দাবি করে তিনি বলেন, এর প্রমাণ দুদকের একটি ভুয়া মামলায় সাজানো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের নামে অর্থ লেনদেনের মিথ্যা তদন্তে নেমেছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা কিছু করতে পারছে না।

দুর্নীতি করতে দেশের বড় বড় প্রজেক্টগুলো সরকার ‘নিজেদের লোক’কে দিচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্বত্ত্ব দুইজন মানুষের কাছে দেওয়া হয়েছে। যা কিছুই করবেন তাদের কাছ থেকে করতে হবে। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্রান্স থেকে এটা বানানো হয়েছে। এটার স্বত্ত্ব সরকারের কাছের মানুষকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বড় বড় সব কন্ট্রাক্ট নিজেদের লোকতে দেওয়া হয়েছে।’

সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমস্যায় পড়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা বড় ধরনের এক অশনিসংকেত। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে কোনো অগ্রগতি নেই। একটা লোককেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার।

বাংলাদেশ ৮ হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা দিয়েছিল, সেখান থেকে মাত্র ৬০০ জনকে তারা যোগ্য মনে করে ফেরত নেওয়ার। বাকিদের তারা ফেরত যাওয়ার যোগ্যই মনে করে না। কথাই বলে না। এই হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য।’

জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহেনা প্রধানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলটির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, এলডিপির মহাসচিবের ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।