খাসোগি হত্যার প্রতিবেদন থেকে তিনজনের নাম গায়েব

0
97

সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বহুল আলোচিত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা বদল করা হয়েছে। বদল করা প্রতিবেদনে রহস্যজনকভাবে তিনটি নাম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

গত শুক্রবার জো বাইডেন প্রশাসন প্রথম খাসোগি হত্যার শ্রেণিবদ্ধ গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগিকে হত্যার অভিযানে সরাসরি অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সৌদি আরবের ৭৬ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র জানায়নি।

পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রথম প্রকাশ করা প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তার বদলে প্রতিবেদনটির আরেকটি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।

প্রথম প্রকাশ করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুষ্কর্মে সহযোগী হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ ছিল, নতুন সংস্করণে তেমন তিনজন ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের নতুন সংস্করণে তিন ব্যক্তির নাম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

হুট করে গোয়েন্দা প্রতিবেদন বদল ও বদল করা প্রতিবেদনে তিন ব্যক্তির নাম মুছে দেওয়ার বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলছে সিএনএন।

বদলি প্রতিবেদনে যে তিন ব্যক্তির নাম মুছে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁরা খাসোগি হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন বা আদেশ দিয়েছিলেন বা কোনো না কোনোভাবে জড়িত-দায়ী।

যে তিন ব্যক্তির নাম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রথম জন হলেন—আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল-হোয়ারিনি। খাসোগি হত্যায় আগে তাঁর নাম আসেনি। তিনি সৌদি আরবের একজন ক্ষমতাধর মন্ত্রীর ভাই বলে জানা গেছে। অপর দুজন হলেন ইয়াসির খালিদ আলসালেম ও ইব্রাহিম আল-সালিম। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, খাসোগি ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ছিলেন। তিনি তাঁর বিয়ের জন্য কাগজপত্র আনতে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখানে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর লাশ কেটে টুকরা টুকরা করে গায়েব করে দেওয়া হয়। তাঁর দেহাবশেষ আর পাওয়া যায়নি।

সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। সৌদি আরব প্রথমে খাসোগি খুন হওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে। পরে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শুরু থেকেই মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হয়। সৌদির যুবরাজ এই হত্যায় তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে সৌদির শাসক হিসেবে তিনি এই হত্যার দায় এড়াতে পারেন না বলে স্বীকার করেন।