উৎসাহ উদ্দীপনায় শুরু হয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণ

0
89

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে এ ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সকাল ৮টা থেকে এ ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ী হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এর কিছুক্ষন পর নিজের ভোট প্রদান করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে খুলনাবাসী নৌকায় ভোট দেবে।

প্রায় ৫ লাখ মানুষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন তাদের নগরপিতা ও কাউন্সিলরদের। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬০ জন এক্সিকিউটিভ এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি রয়েছে ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। মেয়র পদে পাঁচজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ নির্বাচনে।

বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগেই ভোটাররা হাজির হয়েছেন ভোটের লাইনে। দিনের শুরুতে নারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

এ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল কবির মহেশ্বর পাশা নিউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বলেন, “সকালে ভোট শুরুর আগে থেকেই আমি ১৫টি কেন্দ্র ঘুরে পরিস্থিতি দেখেছি। নির্ধারিত সময়েই ভোট শুরু হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই।”

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই সবার কাছে আমরা এ বার্তা দিতে চাই- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়েছে; সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ভোট করতে চাই আমরা।”

এক নজরে খুলনা সিটি নির্বাচন

>> ওয়ার্ড: সাধারণ ওয়ার্ড ৩১টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০টি।

>> প্রতিদ্বন্দ্বী: মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন।

>> কেন্দ্র ও ভোটকক্ষ: ২৮৯টি ভোট কেন্দ্র, তাতে ভোট কক্ষ ১৫৬১টি।

>> ভোটার: ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও মহিলা ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

>> ইভিএমে ভোট হবে দুই কেন্দ্রে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে। দুই কেন্দ্রে ভোটার আছেন তিন হাজারের মত।

 

এই নির্বাচনে বিএনপি শুরু থেকেই সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিল; কিন্তু তাতে সাড়া পায়নি ইসির। পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে শেষ দিনেও সেনা মোতায়েনের দাবি তুলে যান মঞ্জু।

অন্যদিকে বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের হোতা’ আখ্যায়িত করে তালুকদার খালেক বলছেন, খুলনার রায় আওয়ামী লীগের পক্ষেই যাবে।

মেয়র পদে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুজ্জাম্মিল হক প্রার্থী থাকলেও দৃশ্যপটে সেই নৌকা ও ধানের শীষই।