গরমে ত্বকের যত্ম

0
223

মানুষমাত্রই বিশ্বাস করেন, বুড়ো হলেই কেবল ত্বকে ভাঁজ পড়ে, বুড়িয়ে যায়। কথাটি যত না সত্য, তার চেয়ে বেশি মিথ্যা। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বক বুড়িয়ে দেয় এবং তা হতে পারে যে কারো। শুধু তা-ই নয়, ত্বকের বিবর্ণ হওয়া থেকে শুরু করে ত্বকের ক্যানসার পর্যন্ত করে দিতে পারে রোদের তাপজনিত সূর্যালোক।

এ রশ্মির প্রভাবে ত্বকের কোষগুলো মরে গিয়ে হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য। টান টান ত্বকের গায়ে শুরু হয় ভাঁজ; ঔজ্জ্বল্যহীন বিবর্ণ হয়ে পড়ে ত্বক। তাই ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে গরমের দিনগুলোয় সতর্কতা অলম্বন খুব জরুরি। এ জন্য অতিবেগুনি রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে। এ জন্য একটি ছাতা বা টোকা জাতীয় টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা উৎকৃষ্ট সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

সানস্ক্রিন নির্বাচন :

মনে রাখতে হবে, যে ত্বকের রঙ যত সাদা, সেই ত্বক সূর্যালোকে তত বেশি নাজুক। সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম কেবল সূর্যের ‘বি’ অতিবেগুনি রশ্মিই প্রতিহত করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে আমাদের ত্বকের জন্য এসপিএফ ৮ থেকে ১২ যথেষ্ট। কারণ কালো ত্বকের গায়ে যে মেলানিন থাকে, তা প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে।

সাবান ব্যবহার :

বর্ষা ও গরমে দুবার সাবান ব্যবহার করা ভালো। তবে সাবান হতে হবে ক্ষারমুক্ত। কারণ অতিরিক্ত ক্ষার ত্বকের ক্ষতি করে। সেক্ষেত্রে ভালো কোনো বেবি সোপ বা গ্লিসারিন সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। নইলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।

বাড়তি সতর্কতা :

ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে তা কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান প্রয়োজন। গরমকালে ঘামাচি ছাড়াও চুলকানি হয়। এতে ত্বক খসখসে হয়ে পড়ে। তাই ঠাণ্ডা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরের মধ্যে বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঘামাচির প্রবণতা থাকলে গরমকালে কম ক্ষারযুক্ত সাবান দৈনিক দুবার ব্যবহার করা ভালো।

ত্বকে অতিরিক্ত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা ঠিক নয়। ঘামে বস্ত্র ভিজে গেলে তা বদলে শুষ্ক ও পাতলা কাপড় পরে নিতে হবে। গোসলের পর দেহের ভাঁজগুলোয় যেন পানি জমে না থাকে, খেয়াল রাখতে হবে। তেল ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।

পাউডার ব্যবহারের প্রবণতা থাকলে দেহের ভাঁজযুক্ত স্থানগুলোয় ব্যবহার না করাই ভালো। নইলে ভেজা স্যাঁতসেঁতে অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যা ছত্রাক জন্মানোর সহায়ক হতে পারে। ত্বক ভালো রাখতে সব সময় খাওয়া উচিত ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার ।