গর্ভবতী মায়েদের জন্য এলো ‘মা’ অ্যাপ

0
185

প্রতি সপ্তাহে শিশুর গঠন, মায়ের যত্ন, পরিবারের দায়িত্বসহ অন্যান্য বিষয়ে আগে থেকেই মাকে সতর্ক করে দেবে অ্যাপ। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে গর্ভবতী মায়েদের কথা মাথায় নিয়ে ‘মা’ নামের এই অ্যাপ বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগামীল্যাবস লিমিটেড।

এই অ্যাপের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও তার পরিবার গর্ভধারণ থেকে শিশু-জন্মের মাঝে ৪০ সপ্তাহের প্রতি সপ্তাহে শিশুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের শারিরিক এবং মানসিক পরিবর্তন, গর্ভকালীন জটিলতা, গর্ভকালীন অসুখ ও সাধারণ লক্ষণসমূহ, সাধারণ নির্দেশনা, গর্ভকালীন পরিচর্যা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় বাবা এবং পরিবারের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, গর্ভবতী মায়ের যত্ন, গর্ভবতী অবস্থায় কী করা উচিৎ, কী করা উচিৎ না, গর্ভবতী অবস্থায় মা কী খাবেন এবং কোন খাবার গর্ভের সন্তান এবং মায়ের জন্য প্রয়োজন, বিভিন্ন জরুরী অবস্থার লক্ষণসমূহ আর এ অবস্থায় পরিবারের করণীয়, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা প্রতিরোধে করণীয়, গর্ভকালীন সাধারণ জিজ্ঞাসা ইত্যাদি তথ্যের জানান দেবে অ্যাপটি।

এই অ্যাপের বিশেষত্ব হচ্ছে গর্ভবতী মা কোন ত্রৈমাসিকে আছেন তা স্কেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন, লেখচিত্র বা গ্রাফের মাধ্যমে মায়ের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ওজনসীমা সম্পর্কে জানা এবং তার মাধ্যমে মা অতিরিক্ত ওজন বা ওজনহীনতায় ভুগছেন কিনা সে সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা। এ ছাড়াও মা তার প্রতিদিনের শারীরিক পরিবর্তন এবং অস্বস্তিকর লক্ষণসমূহ নোট আকারে সংরক্ষণ করতে পারবেন। প্রয়োজনে গর্ভকালীন যে কোনো সময়ের প্রতিবেদনে তিনি বিশেষজ্ঞদের দেখাতে পারবেন। এমনকি তার আগের গর্ভকালীন ইতিহাস সম্পর্কে জেনে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

নির্মাতদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মা’ অ্যাপে লিখিত ও শব্দযোগ উভয়ই থাকার কারণে শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত সবাই শিশু বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে পারবেন। গুগল প্লে স্টোরে agamilabs.maa নামে অ্যাপটি পাওয়া যাবে।

নির্মাতাদের পাঠানো বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশে ২০১৫ সালে ৭৪ হাজার চারশ’ নবজাতক এবং সাড়ে পাঁচ হাজার প্রসূতির মৃত্যু হয়। প্রতি বছর তা কমছে শতকরা ৩.৯ এবং ৫.৩ ভাগ হারে, যা ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। এই শিশু ও প্রসূতি-মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ গর্ভবতী মায়েদের অপুষ্টি ও সঠিক জ্ঞানের অভাব।” এ ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য সবার কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আগামীল্যাবস লিমিটেড শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস করাসহ ভবিষ্যৎ সুন্দর প্রজন্ম গঠনে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিমা খানম। অ্যাপটিকে মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়েদের উৎসর্গ করেন তিনি।

এই অ্যাপ থেকে হওয়া আয়ের একটি অংশ দেশের দুঃস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থসেবায় খরচ করা হবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।