গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

0
276

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদীর পানি ১২ ঘণ্টায় ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই করছে। আর করতোয়া, কাটাখালি, বাঙ্গালী ও যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে।

তিনটি ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ও ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি। এ নিয়ে জেলার ১৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলো। এ ছাড়া রবিবার প্লাবিত হওয়া ইউনিয়নগুলোর নতুন নতুন গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নতুন করে বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষ নৌকা, কলা গাছের ভেলা ও কাঁধে করে ঘর থেকে মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের বেশির ভাগই ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এদিকে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের ডেভিড কম্পানি পাড়া এলাকায় শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যার অতঙ্কে রয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর ঘেঁষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এ উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সোমবার বিকেল তিনটায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিকেলে মোবাইল ফোনে তিনি আরো বলেন, অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে প্রতিটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিনে পানি আরো বাড়তে পারে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় বন্যার আশংকা করা হচ্ছে।