মাহবুব সৈকত:

গত এক মাসে আকস্মিক বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গবেষণায় দেখা গেছে গত ৮ বছরে গড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাছপালার সংখ্যা কমে আসায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এই দুর্যোগে জীবনহানি কমিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।

স্বজনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ কিশোরগঞ্জের একটি পরিবার। গত এক মাসে আকস্মিক বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন অনঅভিপ্রেত প্রাণহানির সংখ্যা কম নয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ বছরে বর্জপাতে মারা গেছে প্রায় দুই হাজার মানুষ। সে হিসেবে প্রতি বছর গড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ।

এর বেশি ভাগই এপ্রিল এবং মে মাসেই হয় বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব মেট্রলজির চেয়ারম্যান প্রফেসর তাওহিদা রশিদ

তথ্যানুযায়ী বজ্রপাতে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে মৃত্যুর হার কয়েকগুণ বেশি। শহরাঞ্চলেও বেশির ভাগ ভবনেই নেই বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা জানান ড. ইয়াসির আরাফাত। সহযোগী অধ্যাপক, তড়িৎ ও ইরেকট্রনিক কৌশল বিভাগ, বুয়েট।

জনশ্রতি রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৃটিশ আমলে স্থাপন করা ম্যাগনেটিক পিলার এক শ্রেণীর অপরাধী চক্র তুলে নিয়ে যাওয়াই বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ। বিষয়টি কতটুকু সত্য সে বিষয়ে কথা হয় এই গবেষকদের সাথে।

আবার তাল গাছের সাথে বজ্রপাতের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন সাধারন মানুষ। আসলে বিষয়টি কি তাও পরিস্কার হওয়া দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনে কিম্বা প্রকৃতির খেয়ালিপনা যাই হোক না কেন প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে জীবন হানি কমিয়ে আনতে অতিদ্রুত বেশ কিছু পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষতির হাত থেকে বাচতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার নেই বিকল্প। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ সচেতন সমাজের।