গাজীপুরে ভাগ্নি হত্যার অপরাধে মামার মৃত্যুদণ্ড: দুই জনের যাবজ্জীবন

0
57

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাত বছরের আপন ভাগ্নি নাজমীনকে গলাকেটে হত্যার দায়ে মামাকে ফাঁসির দণ্ড এবং অপর দুই আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক ওই রায় দেন।

এ ছাড়া রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হলো- শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার হাসমত আলীর ছেলে মো: রিপন মিয়া (৩৩)। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলো-বগুড়া সদরের ভাটকান্দি গ্রামের মো: রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২০) এবং শেরপুর ঝিনাইগাতী থানার দিঘীরপাড় এলাকার মো: মোস্তফার ছেলে মো. মোজাফ্ফর (১৯)। দন্ডপ্রাপ্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গাজীপুরের আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো: রবিউল ইসলাম জানান, শিশু নাজমীনের মা আছমা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ের পর আগের ঘরের সন্তান নাজমীন শ্রীপুরের চকপাড়া এলাকার নানা হাসমত আলীর বাড়িতে থাকত।

২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর সকালে হাসমত আলী তার স্ত্রী ও নাজমীনকে বাড়ি রেখে টাঙ্গাইলে বেড়াতে যান। ওই দিন দিবাগত (৩০ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে নাজনীমকে গলকেটে হত্যা করা হয়।

পরে আছমা বেগম বাদী হয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিন প্রতিবেশি আব্দুল করিম, আব্দুল কাদির ও আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৬ সনের ১৬ জানুয়ারি দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন।

চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়-প্রতিপক্ষ আব্দুল করিম গংদের ফাঁসানোর জন্য রিপন ওই দুই সহযোগি নিয়ে নাজমীনকে গলাকেটে হত্যা করে। আটজনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানী শেষে বুধবার সকালে আদালত ওই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষে শাহ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ওয়াহিদুজ্জামান আকন (তমিজ) মামলা পরিচালনা করেন।