ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে চলছে ব্যপক প্রস্তুতি

0
215

ঘুর্ণিঝড় ফণি আঘাতের শঙ্কায় উৎকন্ঠা বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া পায়রা বন্দরসহ তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষের মাঝে। ঘুর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে কলাপাড়ার পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় কুয়াকাটা মহিপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় দুই দফা হাল্কা বৃষ্টিপাতসহ দক্ষিণের দমকা বাতাস বইছে। পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে উপকূলীয় কলাপাড়ায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম।

ঝালকাঠিতে ঘুর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলা ব্যাপক প্রস্ততি প্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর জানান, জেলা প্রশাসন এই ঘুর্নিঝড় মোকাবেলার জন্য ২৮টি সাইক্লোন সেল্টার ও ৪৫ টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রেখেছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি ও চার উপজেলায় চারটি জরুরী কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ মোকাবেলায় ভোলা জেলায় ১০ হাজার ২শ সেচ্ছাসেবক ঘূর্নিঝড়ের সতর্ক সংকেত প্রচার করছে। প্রত্যেক মসজিদের মাইকে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অপর দিকে ৬শ ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চরাঞ্চল থেকে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশের জলজান দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ নদী উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতির আশঙ্কায় চাঁদপুর-ঢাকা, চাঁদপুর-নারায়নগঞ্জ রূটের সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। দুপুরে বিআইডাব্লিউটিএ’র চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন পরিদর্শক মাহতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির আশঙ্কায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সারাদেশের লঞ্চ ও নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লঞ্চসহ সকল নৌ-যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

‘ ঘূর্ণিঝড় ফণী ’র প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নদীবন্দরের ঘাট ট্রাফিক ইনসপেক্টর শাহাদাত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে শিমুলিয়া ঘাটসহ সারাদেশে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ঘুর্ণিঝড় ফনি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট ১৯ জেলার প্রত্যেকটিতে ২শ টন করে চাল ও ২ হাজার প্যাকেট করে শুকনা খাবার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে ৫ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে পাশাপাশি সরবরাহ করা হয়েছে সোলার কানেকশন ও সুপেয় পানির জন্য ৩০টি ট্রাক। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। সচিবালয়ে আলাদা অনুষ্ঠানে এসব কথা জানানো হয়।