ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার

0
666

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাড়িতে প্রবেশের পর হামলা চালিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়হিদা খানম ও তাঁর বাবাকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

শুক্রবার দুপুরে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এ তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন, সিংড়া ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি মাসুদ, মামলার অন‌্যতম আসামি যুবলীগের সদস‌্য আসাদুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পালাশ। 

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হিলির কালীগঞ্জ এলাকা থেকে যুবলীগের সদস‌্য আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর গ্রাম। বাবার নাম আমজাদ হোসেন।

ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয় ঘোড়াঘাট উপজেলার রানিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে। জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ‌্যায় যুবলীগ নেতা সিংড়া ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি মাসুদ ও নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পালাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য আটক করা হয়। শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ঘোড়াঘাট থানায় ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে হত‌্যা চেষ্টার মামলা করেন।

বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার সরকারি বাংলোতে হামলার শিকার হন ওয়াহিদা খানম। এ সময় তার বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। ওয়াহিদা খানমকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে আনা হয়। রাতে অস্ত্রোপচার করে তার মাথার ভাঙ্গা হাড়ের টুকরাগুলো জোড়া দেওয়া হয়।

হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরোসার্জন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অস্ত্রোপচার শেষে রাতে সাংবাদিকদের জানান, ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। 

পরে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, সকালে তার (ওয়াহিদা খানম) জ্ঞান ফিরেছে।  তাকে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইউএনও’র স্বাস্থ্যগত সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আসেনি জানিয়ে বলেন, আরও পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিক্যাল বোর্ড বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

আগামীকাল শনিবার মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা বসবেন, এরপর তাঁর শারীরিক বিষয়ে চিকিৎসকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।