চাওয়া পাওয়ার হিসেব না করে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

0
141

চাওয়া পাওয়ার হিসেব না করে দেশের মানুষের ভাগ্যেন্নয়নে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছি, শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন এলেই একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে যায়, সরকারের উন্নয়ন তাদের দৃষ্টিগোচর হয়না। দেশের শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন অবদানের কথাও প্রশ্নোত্তর পর্বে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন এলে একটা শ্রেণি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার অলিগলি খুঁজতে থাকে। কারও নাম উল্লেখ না করে ওই শ্রেণির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ভালো দেখে যখন ইমার্জেন্সি হয়, দুর্বলভাবে ক্ষমতায় এসে তাদের ডাকে। আ-তু করে ডাক দিলে তারা ছুটে যায়। এই শ্রেণিটাই দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য সব থেকে যন্ত্রণাদায়ক।’

সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বিভিন্ন দেশে, গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া উপাধি তুলে ধরে বলেন, এরপরও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা দরকার আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি কথা দিয়ে এত আলো জ্বালানোর পর হঠাৎ সুইচটা অফ করে দিলেন কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে দেশের উন্নয়নের জন্য। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের জিজ্ঞাসা করেন, তাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।

সংসদনেতা বলেন, কোনো চাওয়া-পাওয়া নয়, তিনি কাজ করেন মানুষের কল্যাণের জন্য। যতই বিশেষণ দেওয়া হোক, তাতে তাঁর ওপর প্রভাব পড়ে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজার বিশেষণ দিলেও আমার মাথা কখনো খারাপ হবে না। আমি কখনো বেতালা হব না, সেটা আমি জানি। একমুখে বিশেষণ দেবে আবার উনিশ থেকে বিশ হলে ওই মুখে গালিও দেবে। যে হাতে মালা দেবে, সেই হাতে ঢিলও মারবে। সেটাও জানা আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা তাদের ভালো লাগে না। তারা উন্নয়ন চোখে দেখে না। এমনকি বললেও তারা শোনে না। তারা চক্ষু থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির।

ওই শ্রেণির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক সরকার এলে বা জরুরি অবস্থা হলে তাদের একটু গুরুত্ব বাড়ে। তাদের ক্ষমতায় যাওয়া, পতাকা পাওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয় না। কারণ নির্বাচন করার মতো যোগ্যতা তাদের নেই। এ কারণে তারা বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার অলিগলি খুঁজতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর তারা উৎফুল্ল ছিল। দল গঠন করবে, ক্ষমতায় যাবে। ক্ষমতার মসনদে বসবে, কিন্তু হয়নি। ২০১৪ সালেও নির্বাচন বানচাল করে বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণ সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। আমরা আশ্বস্ত করেছি, নিশ্চয়ই আমরা বিবেচনা করব, পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের শরিক তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুল সরকারিকরণ ও এমপিওভুক্তি নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে। কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, পাওয়ার যোগ্য কি না তা দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে যে স্কুলের প্রস্তাব নিয়ে আসলো সেই স্কুলে মাত্র দেড়শ ছাত্র-ছাত্রী, মাত্র দেড়শ! সেখানে সরকারিকরণ করবার প্রস্তাব নিয়ে আসছে আমারই আত্মীয়। আমি বলে দিলাম যেখানে মাত্র দেড়শ ছাত্র-ছাত্রী, এটা কীভাবে সরকারিকরণ করব? আত্মীয় হলেই তো এসে… বললেই তো আমি করতে পারবো না। আমি ওখানে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলাম। একটা যৌক্তিকতা থাকতে হবে তো। আমার আত্মীয় হয়ে প্রস্তাব নিয়ে আসলো আর আমি সেটা দেখেই সরকারি করে দেবো, এত বড় অন্যায় তো আমি করব না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা প্রায় ৩৬ হাজার স্কুল সরকারিকরণ করেছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তখন আমরা ২৬ হাজার স্কুল সরকারি করে দিয়েছি। তখন কিন্তু একটা কথা ছিল, আর কোনো স্কুল সরকারিকরণের জন্য দাবি করা যাবে না, এমপিওভুক্ত করলেই হবে। এরপর বেশকিছু স্কুল এমপিওভুক্ত করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম আবার শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলেন। প্রত্যেক এলাকায় কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন সেগুলো কিন্তু একটা হিসাব করে সেইভাবে স্কুল তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। বন্যাপ্রবণ এলাকায় কিছু স্কুল তৈরি করার প্রকল্প নিয়েছি। প্রায় ৩ হাজার স্কুল করব। সেখানে স্কুল যেমন চলবে আবার বন্যা এলে সেখানে যেন মানুষ আশ্রয় নিতে পারে সেই ব্যবস্থা হবে।