চালের আমদানি শুল্ক কমলো ৩৭.৫ শতাংশ

0
418

বেসরকারিভাবে চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে শুল্ক কমেছে ৩৭.৫ শতাংশ। নতুন শুল্ক হারে চাল আমদানি করতে আগ্রহীদের আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে।

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে রবিবার অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

একইসঙ্গে সরকারিভাবে ৪ লাখ মেট্রিক টন, জিটুজি পদ্ধতিতে দেড় লাখ মেট্রিক টন এবং বেসরকারিভাবেও চাল আমদানি করা হবে বলে জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেই আমরা বেসরকারিভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। এখন ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বৈধ লাইসেন্সধারীদের আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে। মন্ত্রণালয় থেকে যাকে যতটুকু ছাড়পত্র দেয়া হবে, সে অনুযায়ী এলসি হবে। সেটা আমরা মনিটরিং করব।

দাম না বাড়ালে চাল না দেয়ার বিষয়ে মিলারদের হুমকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কারো হুমকিতে মাথা নত করে না। আমরা মিলারদের চুক্তির জন্য পীড়াপিড়ি করিনি। তারা তাদের হুমকি নিয়ে থাকুক। প্রয়োজনে আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধান বেশি করে কিনব। যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দরকার হলে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চাল কিনব।

মন্ত্রী বলেন, বোরো ধান ওঠার আগে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার আমরা করব। বোরো মৌসুমে এ অবস্থা থাকলে আবার আমদানি করব। আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করেছি। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্য মণপ্রতি ১০৪০ টাকা, কিন্তু বাইরে কৃষকরা ধান বিক্রি করে বেনিফিট হলে সরকারের কাছে বিক্রি করে না। কারণ আজকেও বাইরে ১২০০ টাকা মণ দাম আছে। 

সাধন চন্দ্র বলেন, আমাদের চালের রেট বাণিজ্য, কৃষি, অর্থ, খাদ্য মন্ত্রণালয় মিলে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সহনীয় রেট কী করা যায় সেটার নীতিমালা নেই। সবকিছুর একটা নীতিমালা আছে, কিন্তু এটার নেই। ধানের দাম কমলে আমরা কৃষকের জন্য হাহাকার করি। আবার চালের দাম বাড়লেও হাহাকার করি। তাই এখানে একটা স্ট্যান্ডার্ড রেট থাকতে হবে। সহনশীল একটি স্ট্যান্ডার্ড রেট তৈরি করতে হবে।  

খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক আজিজ মোল্লাসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।